অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২২শে মে ২০২৬ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় সেচের অভাবে ও পোকার আক্রমনে মরে যাচ্ছে গম গাছ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ই মার্চ ২০২৩ রাত ১০:৪০

remove_red_eye

৩২২

 
বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক:  ভোলায় গমে ফলন ভালো হলেও তা পাকার আগেই ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  ভোলায় বৃষ্টি না হওয়ায় এক দিকে সেচের অভাব ,অন্য দিকে পোকার আক্রমনে মরে যাচ্ছে গম গাছ। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

ভোলায় সদর উপজেলার ইলিশা উনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার চর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমি নগদ লগ্নিতে চাষাবাদ করেন তিনি। এ বছর সরকারিভাবে ২০ কেজি গমের বীজ পেয়ে নিজে আরো ৪৮ কেজি গমের বীজ কিনে এক একর জমিতে গমের চাষ করেছেন। এতে তাঁর প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গমের ভালো ফলনে এসেছে। কিছু দিন পরেই গম ঘরে তোলার আশায় ছিলেন কৃষক মোহাম্মদ আলী। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর গমের খেতে পোকার আক্রমনে অধিকাংশ গমের শীষ নষ্ট হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি গম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, গত বছর এক একর জমিতে গম চাষ করে ২১ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। তাই এবছরও তিনি গমের চাষ করেছেন। কিন্তু পোকার আক্রমনে তাঁর গমের খেত এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষি অফিস থেকেও তাদেরকে সঠিক কোনো পরামর্শ দিচ্ছে না।

মোহাম্মদ আলীর মতো আরও অনেক কৃষক এবার গমের চাষ করেছেন। এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে গমের শীষ মরে সাদা হয়ে যাওয়ায় কৃষকের এই হাসি মলিন হতে শুরু করেছে। তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাজ। কৃষি অফিস থেকেও তারা সঠিন কোনো দিক নির্দেশনা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা। তবে কৃষি কর্মকর্তারা শীষ মরে যাওয়া কারণ হিসেবে মাজরাপোকার আক্রমণ ও  সঠিক সময়ে সেচ না দেওয়াকে দুষছেন।

গত শনি ও রবিবার ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, বাপ্তা ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, এসকল ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতে গমের আবাদ করা হয়েছে। বাতাসের সাথে দুলছে সেই গমের শীষ। প্রায় দুই সপ্তাহ পর সেই গম কেটে ঘরে তোলার কথা ছিলো কৃষকদের। এমন সময়েই গমের শীষে পোকার আক্রমন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিন কাটছে কৃষকদের। এ অবস্থায় তারা কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক কোনো পরামর্শও পাচ্ছেন না।

পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের কৃষক ছগির আহাম্মদ জানান, তিনি ১২ গন্ডা জমিতে গমের আবাদ করেছেন। এতে তার প্রায় ১৯ হাজার টাকা মতো খরচ হয়েছে। তিনি সরকারি কোনো বীজ বা সহায়তা পায়নি। গমের ভালো ফলন হয়েছে তাঁর খেতে।  আর ১৫-২০ দিন পর গম কেটে ঘরে তোলার কথা কৃষক ছগিরের। কিন্তু হঠাৎ করে দেখেন তার খেতের অনেক গমের শীষ সাদা হয়েছে যাচ্ছে। এ নিয়ে আমি দুঃচিন্তায় আছেন। তিনি আরো জানান, গত বছর গম চাষে তাঁর ১০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবছর ভালো ফলন হওয়ার পরও তাঁর লোকসান গুনতে হবে।
কৃষক মোহাম্মদ আলী ও ছগির আহমেদের মতো আরও প্রয়া ৮-১০জন কৃষক একই অবস্থার কথা জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভোলা জেলায় গমের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর। লক্ষমাত্রার চেয়ে আড়াই হাজার হেক্টর বেশী গমের আবাদ হয়েছে। ফলনও অন্য বারের তুলনায় এ বছর ভালো হয়েছে। গম চাষের নিয়ম হলো ১৯ থেকে ২০ দিনের মাথায় একটি সেচ দিতে হয়। আবার ৫৭ দিনের মাথায় একটি এবং ৭৭ থেকে ৭৮ দিনের মাথায় একটি সেচ দিতে হয়। এ তিনটি সেচ সঠিকভাবে দিতে পারলে গমের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবির জানান, গমে খেতে তিনবার সেচ দিতে হয়। সঠিক সময়ে সেচ না দেয়ায় কিছু কিছু খেতের গমের শীষ সাদা হয়ে নষ্ট হয়েছে। কিছু কিছু খেতে মাজরাপোকার আক্রম হয়েছে। তবে সেগুলো খুব কম। আমরা কৃষকদের সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর গম কাটা হয়ে যাবে। এতে বেশী একটা ক্ষতি হবে না বলে জানান এ কর্মকর্তা।