অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় চলছে সড়কের পাশে খোলা স্থানে বালুর ব্যবসা: প্রতিবাদে মানববন্ধন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে মার্চ ২০২৩ রাত ০৯:২৭

remove_red_eye

৪৮৫

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক: ভোলায় রাস্তার পাশে খোলা স্থানে বালুর ব্যবসা বন্ধ ও সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১১ টার দিকে সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের চাচড়া উকিল বাড়ি সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে ওই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৫ শতাধিক বাসিন্দা অংশগ্রহন করেন। পরে তাঁরা একই দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

 ভোলা পশ্চিম বাপ্তা আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পশ্চিম বাপ্তা আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক মো. রাশেদ আলম, ইকরামুল আলম, উকিল বাড়ির দড়জার বাইতুর নুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, বাপ্তা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহিরুজ্জামান সোহরাব, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজ সেবক মাসুদ রানা পাটওয়ারী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুল ইসলাম জিলন প্রমূখ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের বাপ্তা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাবুল মোল্লা সেতু পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক বালুখোলা। এ বালুখোলায় দুই-তিন তলা ভবনের মতো উচু করে বালু রেখে তা বিক্রি করা হয়। যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বালুখোলা থেকে বাতাসে ওড়ে গিয়ে বালু মানুষের ঘরবাড়িতে যাচ্ছে। এখান থেকে প্রতি দিন শতাধিক খোলা ট্রাকে বালু আনানেওয়ার সময় স্কুলের সহ¯্রধিক শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নাকে-মুখে প্রবেশ করে। এতে করে এলাকার মানুষ বিভিন্ন শ^াসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি এই এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার রোকের বসবাস। বাতাসে এ বালু উড়ে গিয়ে মানুষের ঘরে, স্কুল-কলেজে ও মসজিদ-মাদরাসায় প্রবেশ করে। এতে করে অনেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুজ্জামান সোহরাব, মাইনুল ইসলাম জিলনসহ ৫-৭জন বাসিন্দা জানান, এ সড়কটিকে ঘিরে ওই এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার লোকের বসবাস। সড়কের পাশে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি স্কুল এন্ড কলেজ ও ৮-১০টি মসজিদ রয়েছে। কিন্তু চার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে খোলা যায়গায় প্রায় ৫০টি বালুখোলা রয়েছে। সেগুলো থেকে প্রতিদিন শতাধিক খোলা ট্রাকে করে বালু আনানেওয়া করে থাকে। এতে করে একদিকে বালুর কারনে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সড়কটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়কটি গত ২০২০ সালে সংস্কারের পর ওই এলাকার মানুষ এর সুফল দুই তিন মাসও ভোগ করতে পারেনি। যার প্রধান কারন এ বালুর ব্যবসা এবং ভারী যানবাহন চলাচল। প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে শত শত বালুর ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে বালুর ব্যবসা ও সড়কের বেহাল দশার কারনে এ সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। এমনটি এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী চলাচল করে থাকে। তাই এ এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দ্রæত সড়ক পাশ থেকে বালুর খোলা বন্ধ করে সড়কের সংস্কারের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।