অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় জমে ওঠেছে কুরবানির পশুরহাট


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫শে জুন ২০২৩ রাত ১১:৪৪

remove_red_eye

৪২৬

ইকরামুল আলম: আর মাত্র তিন দিন পরেই পবিত্র কুরবানির ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে ভোলায় জমে ওঠেছে কুরবানির পশুরহাট। হাটে গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। তবে এবছর গরুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। বিক্রেতা বলছেন খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু লালন-পালনে গত বছরের তুলনায় দুই থেকে তিন গুন বেশী খরচ হয়েছে। আবার ক্রেতা বলছেন, বিক্রেতারা গরুর দাম বেশি হাকিয়ে বসে আছেন। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড় থাকলেও আশানরুপ তেমন কেনাবেচা হচ্ছে না। শনি ও রবিবার ভোলার বিভিন্ন গরুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ভোলা জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এবছর কুরবানী ঈদ উপলক্ষে ৯৩টি স্থায়ী ও ৩৯টি অস্থায়ী পশুরহাট বসেছে। এর মধ্যে সদরে ১৫টি, দৌলতখানে ৬টি, বোরাহনউদ্দিনে ১২টি, তজুমদ্দিনে ৫টি, লালমোহনে ২৬টি, চরফ্যাশনে ২২টি ও মনপুরায় ৭টি। এছাড়াও জেলা ও সাত উপজেলার প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের তত্ত¡াবধানে আরো ৮টি অনলাইন পশুর হাট রয়েছে। এ হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মোট ২১টি ভেটেনারী মেডিকেল টিম কাজ করছে। এ বছর ভোলায় কুরবানীর জন্য দুই হাজার ৮৮৩টি খামারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে মোট ৯০ হাজার ১০০টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে ভোলায় এ বছর পশুর চাহিদা রয়েছে ৮৪ হাজার ৪০০টি। চাহিদার চেয়ে পাঁচ হাজার ৭০০টি পশু বেশী রয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার খামারী মো. আকতার হোসেন, মনিরুল ইসলামসহ একাধিক খামারী জানান, বলছে, গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের একটি পশুর পিছনে অনেক টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু তাদের খরচ অনুযায়ী দাম বলছে না ক্রেতারা। তা ছাড়া ভারতীয় গরু বাজারে প্রবেশ করলে তাদের লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে বলে তারা আশংকায় করছেন। তারা আশা করছে, ঈদের আগে হাটে দাম পেলে তারা লাভবান হতে পারবেন। তা না হলে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা মো. আব্দুল মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাজারে অনেক লোকের সমাগম, কিন্তু সে অনুযায়ী কেনাবেচা হচ্ছে না। সবাই ঘুরছেন আর দেখছেন। তিনি দুই গরু বিক্রির জন্য বাজারে এনেছেন। একটির দাম দিয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার টাকা, অপরটির দাম এক লাখ টাকা।
এই বাজারের আরেক গরু বিক্রেতা মো. আমির হোসেন জানা, একটি গরু বিক্রির জন্য বাজারে এনেছেন এবং বিক্রিও করেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বেশী দামে গরু বিক্রি করেও কম লাভবান হয়েছেন। এর কারণ হিসেবে গরু পালনে খরচ বেশী হওয়াকে দায়ী করেছেন।
বাজারে গরু কিনতে আশা মো. আল আমিন হাওলাদার জানা, দুই ঘন্টা ধরে হাটে ঘুরেও গরু মিল করতে পারছেন না। তুলনামূলকভাবে বিক্রেতারা গরুর অধিক দাম হাঁকিয়ে বসে আছেন অভিযোগ করেন তিনি।

ভোলা জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, হাটগুলোতে যাতে রোগে আক্রান্ত গরু বিক্রি না হয় সে জন্য ২১ ভেটেনারি টিম বসানো হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে রিষ্ট পুষ্ট বা মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে এসব গরুই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তাই ক্ষতিকর কোনো কেমিক্যাল বা অন্য কোনো উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরু বিক্রি করার সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোলায় চাহিদার চেয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক পশু বেশী রয়েছে। সেগুলো পাশের জেলায় বিক্রি হবে। যেহেতু দেশে কুরবারির পশু চাহিদার চেয়ে বেশী রয়েছে তাই ভারতীয় গরু দেশে আসার কোনো সুযোগ নেই। খামারীরাও গরুর ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।