অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলার ভেলুমিয়া থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫শে জুলাই ২০২৩ রাত ১০:৪৬

remove_red_eye

৫৪৯


 মলয় দে : ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়ন থেকে রিপা বেগম(২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ । মঙ্গলবার ২৫ শে জুলাই সকালে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামে মৃতের স্বামীর বাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। । মৃত রিপা বেগম দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ কোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলামের মেয়ে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও পাড়া প্রতিবেশীদের অভিযোগ রিপা কে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

মৃত রিপা'র পিতা জানায়,আমার মেয়ে রিপা বেগম কে ২ বছর আগে ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বারেক গাজীর ছেলে ইসমাইল  বিয়ে হয়।কিছুদিন পর তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ইসমাইল হোসেন যার বতর্মান বয়স ১৪ মাস। সোমবার রাতে আমার মেয়ে রিপা আমাকে ফোন করে কাঁদে। ওর কান্না শুনে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কি হয়েছে তোর?আমি কি আসবো?
তখন আমার মেয়ে আমাকে তার শ্বশুর বাড়িতে যেতে মানা করে এবং বলে আপনি আইসেন না।আসলে আপনি অপমানিত হবেন।পরের দিন মঙ্গলবার সকালে ৯টায় আমার ফোনে আমার শ্বাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ফোন করে আমাকে জানায়,  আমার মেয়ে রিপা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এমন খবর জানতে পেরে দ্রæত আমার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে যাই। ঘটনা স্থলে গিয়ে সেখানকার স্থানীয় ইউপি সদস্য  মোঃ রাছেল, আমার মেয়ের শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি সহ আরো অনেক লোকের সমাগম দেখতে পাই। পরে সেখানে গিয়ে ঘরে ঢুকে দেখি রিপা'র মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে আর তার লাশের উপর রশি ঝুলতেছে। পরে আমি সেখানে থেকে মৃত্যুর খবর পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে আমার মেয়ের মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য লাশ ভোলা সদর হাসপাতালে পোস্ট মটেম করার জন্য পাঠায়।
মৃত রিপার বাবার বাড়ীর এলাকার এক প্রতিবেশী মোঃ আকবর তিনি জানায়,রিপাকে বিয়ে দেয়ার ৩মাস পর থেকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে টাকা দাবি করে।মৃতের বাবা মেয়ের সুখের কথা ভেবে তার জামাই ইসমাইল কে ৪০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও আংটি দেয়।তার কিছুদিন পর তাদের ঘরে সন্তান জন্ম নিলে একটি গরু দাবি করে।রিপার বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় সে তা দিতে না পারলে রিপার সাথে  তার স্বামী খারাপ আচরন করে।রিপা তা সহ্য করতে না পরলে তার বাবার বাড়িতে চলে আসে।পরে আমরা আবার বুঝিয়ে পাঠাই।এবার হয়তো এই কারনেই সে আত্ম হত্যা করেছে।
 আরেক প্রতিবেশী মোঃ ঝিলন ও একই কথা বলেন।তার বক্তব্যে ও যৌতুকের টাকার জন্যই তার স্বামী রিপাকে অত্যাচার করে। তাই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানা ইনচার্জ মোঃ শাহীন ফকির জানায়,আমাদের পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশ বিছানায় পায়।রশিতে ঝুলানো পায় নি।সেখানকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করে প্রাথমিক ভাবে এটিকে আত্মহত্যার মামলা রুজু করা হয়েছে।হত্যাটির বিষয়ে পুরোপুরি বুঝার জন্য পোস্ট মটেম রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি।পোস্ট মটেম রিপোর্টে সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।