অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় শিক্ষার্থীদের ব্যাতিক্রমী আয়োজন শিক্ষক দিবস পালিত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ই অক্টোবর ২০২৩ রাত ০৯:০৩

remove_red_eye

৩৮০

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা ক্লাসের সহপাঠীরা মিলে সিদ্ধান্ত নেই শিক্ষক দিবসে আমরা স্কুলের স্যার ম্যাডামদের সারপ্রাইজ দেয়ার। সকলে মিলে চাঁদা তুলে একটি ক্লাসরুম বেলুন দিয়ে সাজাই। নিজেরাই হাতে রং তুলি আর কাগজের সাহায্যে শিক্ষকদের জন্য কার্ড তৈরি করি। এরপর দুপুরে টিফিন পিরিয়ডে স্যার ম্যাডামদের ডেকে এনে কার্ড উপহার দেই। পাশাপাশি কেক কেটে আনন্দ উল্লাস করি। আমরা শিক্ষকদের বাবা মায়ের পর শ্রদ্ধা করি। তাই আজকে শিক্ষক দিবসে আমরা সেই ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানাতে এমন আয়োজন করেছি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী 'সিয়েনা তাসকিয়া পূন্য' এমন সব আবেগ অনুভূতির কথা তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে।


শুধু এই বিদ্যালয়টি নয় ভোলা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন স্কুলে নানা আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়েছে। চমক লাগিয়ে কেক কাটা থেকে শুরু করে নানা আয়োজনে শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষার্থীরা দিনটি পালন করে। এমন আয়োজনে তাদের বন্ধন আরো সুদৃয় করে তুলে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকালে ক্লাশ শুরুর অনেক আগেই চলে আসেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা কেউ বেলুন ফুলিয়ে ক্লাশে সাজাচ্ছেন। আবার কেউ কেক নিয়ে এসেছেন। ঢোল বাধ্য বাজাচ্ছেন। এ সময় স্কুল প্রাঙ্গনে এক ধরনে উৎসব আমেজ বিরাজ করে। বিরতির ঘন্টা বাজার সাথে সাথে সাজানো ক্লাশ রুমে ডেকে এনে শিক্ষকদের চমক লাগিয়ে দেন ছাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতের তৈরী নানা উপহার শিক্ষা গুরুর হাতে তুলে দেন। এ সময় শিক্ষকরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এর পর কেক কেটে শিক্ষকদের খাইয়ে দেন তারা। এ সময় শিক্ষা গুরু আর শিক্ষার্থী সকলে মিলে মিশে বয়স ভুলে একাকার হয়ে যায়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে।
সেখানে উপস্থিত শিক্ষিকা শারমিন জাহান শ্যামলী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এটা আমাদের কাছে আনন্দের বিষয়। বাচ্চাদের এমন আয়োজনে আমরা বিস্মিত। ছাত্রীরা আমাদের এভাবে ভালোবাসে, এটা আমরা কল্পনা করতে পারিনি । এমন ভালোবাসায় তারা আমাদের অন্তরের সাথে মিশে গেছে। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এভাবে যেস সব সময় শিক্ষার্থীরা আমাদের সাথে খোলাখুলি মিসতে পারে, কাছে আসতে পারে, আর আমরাও যেন সব কিছুতে তাদের পাশে থাকতে পারি, এটাই হবে আজকের এই শিক্ষক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।


ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু লেখা পড়ার গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সর্ম্পক হবে শ্রদ্ধা ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের। তাহলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে স্মার্ট বাংলাদেশে গড়ার স্বপ্ন রয়েছে, তা বাস্তবায়ন সম্ভব। কারণ শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তাই এমন সৌভাগ্যপূর্ণ সম্পর্ক দিয়ে শিক্ষরাই পারে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ উপহার দিতে।