অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় মিধিলির তান্ডবে চুরমাড় কৃষকের স্বপ্ন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ই নভেম্বর ২০২৩ রাত ১১:০৮

remove_red_eye

৪৪১

শফিক খাঁন : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে বয়ে যাওয়া ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে কৃষকের ফসল ও বনবিভাগের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
মিধিলি ভোলায় তান্ডব চালিয়েছে ১৭ই নভেম্বর দুপুরের দিকে । ভোলায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছে  কৃষি অধিদপ্তর ।
ভোলায় শুক্রবার ২৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড হয়। তাই অতিমাত্রায় বৃষ্টি হওয়ায় ভোলায় আগাম শীত কালিন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও আমন ধানেরও ক্ষতি হয়েছে। ভোলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্ত মুন্সি গ্রামের রুহুল আমিন ব্যাপারী জানান, ৬ গন্ডা জমিতে আমন ধান আবাদ করেন। আর ৩ সপ্তাহ পর কাটার কথা। ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন সব নষ্ট হয়ে পচে যাচ্ছে। একই এলাকার কৃষক মোঃ মাকসুদ কবিরাজ জানান, তিনি এক একর জমিতে শীতকালিন আগাম লালশাক, পালং শাক, ধনেপাতা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করেন। তিনি ধার দেনা করে লাভের আশায় সবজি আবাদ করেন। কিন্তু সব ফসল মাটির সাথে মিশে গেছে। তাদের মতো অসংখ্য কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের বিতরণ করা বীজ ধানের প্রায় অর্ধেক বীজতলা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে রবি শষ্যের বুন করা বীজের। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতি হয়েছে পানের বরজের ।
ভোলা সদর উপজেলার  কৃষি কর্মকর্তা সাহাবউদ্দিন  জানান, ঝড়ের কারণে জেলায় ৫৩০ হেক্টর উফসী আমন,   খেসারী ৬০ হেক্টর জমির, গম ১০ হেক্টর, শরিষা ১১০ হেক্টর  ও শীতকালীন শাক সবজি ৮৫ হেক্টর  সম্পূর্ণ বিনস্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে , বরাদ্দ আসলে এসব প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করা হবে ।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসান ওয়ারিসুল কবির জানান, এ ঘূর্ণিঝড়ে জেলায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমন ধান, সরিষা, ডাল ও পানের বরজ।