অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বছরজুড়ে ডেঙ্গুর এই প্রকোপ কেন?


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯শে নভেম্বর ২০২৪ বিকাল ০৫:২১

remove_red_eye

৩৪০

দেশে বছরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলেছে। প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮৯ হাজার ৬০৩ জন এবং চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৭৫ জন।  

 

সাধারণত দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বর্ষার আগে শুরু হয়। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে সারা বছরই কম-বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বছরই ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা শীত-গ্রীষ্ম মানছে না, সারা বছরব্যাপী প্রজনন এবং বংশবিস্তার করছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ না থাকার ফলে দেশে বছরব্যাপী ডেঙ্গু সংক্রমণ চলছে।  

অতীতের বছরগুলোতে শহরের বাসা বাড়িতে আবাসিক ধরনের মশা (এডিস ইজিপটাই) ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘটালেও, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের বুনো মশাও (এডিস এলবোপিকটাস) ডেঙ্গুর বাহক হিসেবে কাজ করছে। গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘটলেও যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ না করায় ডেঙ্গু ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের, ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের, মার্চ মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩১১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের, এপ্রিলে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে দুইজনের।  

মে মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের, জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে আটজনের, জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের, আগস্ট মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৫২১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। সেপ্টেম্বর মাসে ১৮ হাজার ৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবর মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৭৯ জন, মারা গেছেন ১৩৫ জন। নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৮৬ জন, মারা গেছেন ১৬০ জন।  

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেও মোটামুটি ডেঙ্গুর সংক্রমণ থাকবে। এ বছরের ডেঙ্গুর প্রকোপ আগামী বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকবে।     

বছরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ডেঙ্গু বাড়বে এরকম পূর্ভাবাস আগে থেকেই ছিল। এবার বর্ষা একটু দেরিতে শুরু হয়েছে তাই ডেঙ্গুর প্রকোপও শুরু হয়েছে দেরিতে। ডেঙ্গু যে হারে বাড়ছে, সেটা বিপজ্জনক। আমরা জানি, যদি এডিস মশা প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে ডেঙ্গু বাড়বে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বর্তমান উপদেষ্টা এবং সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক ডা. মো. মুশতাক হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, বছরব্যাপী ডেঙ্গুর সংক্রমণের কারণ প্রথমত প্রাকৃতিক, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও বৃষ্টি এবং গরম অব্যাহত ছিল। বৃষ্টিপাতের পরেও ডেঙ্গু অন্তত দেড় থেকে দুই মাস থাকবে। শেষ বৃষ্টির পরে পানি জমা থাকা অবস্থায় শেষ যে মশা ডিম পারে, সেই ডিম থেকে পূর্ণ বয়স্ক মশা হয়ে কোনো ডেঙ্গুরোগীকে দংশন করে, ভাইরাস মশার শরীরে ডেভেলপ করে তারপর আবার কোনো মানুষকে দংশন করে ভাইরাসের ডেভেলপ করা, এই পুরো চক্রটি হতে প্রায় দেড় মাস সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ঘরে বাইরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোনো উন্নতি হয় নাই। জাতীয় ভিত্তিতে আমরা এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করি নাই, যা ছিল তাই আছে। ময়লার ওপর মাঝে মাঝে কীটনাশক ছড়ানো হচ্ছে। কীটনাশক যেখানে ছিটানো হয়, সেখানের মশা বিকল হলেও আবার পাশের জায়গা থেকে মশা এসে সেই স্থান পূরণ করে দেয়। এসব কারণেই ডেঙ্গু বছরব্যাপী হচ্ছে। এখন তাপমাত্রা কমে গেলে মশা কমে যাবে, তবে একদম দূর হবে না। ডেঙ্গু লেগেই থাকবে হয়তো সংখ্যায় কমে যাবে।       

ডেঙ্গুর মৌসুম দীর্ঘায়ত প্রসঙ্গে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা আগেই বলেছি চলতি বছর ডেঙ্গুর মৌসুম দীর্ঘায়িত হবে। আমরা যে ফরকাস্টিং তৈরি করি, সেখানে এডিস মশার ঘনত্ব, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা মিলিয়ে করি। সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি,  ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু থাকবে। এই প্রকোপ আগামী বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত চলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দুই যুগেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কোনো পরিকল্পনা গড়ে ওঠেনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সমন্বয়ে সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সকলের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। 

 

সুত্র বাংলা নিউজ





তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

আরও...