অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৭শে আষাঢ় ১৪৩৩


ফিরে দেখা জুলাই


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১লা জুলাই ২০২৫ রাত ০৮:২১

remove_red_eye

৩৬৯

দেশের ইতিহাসে জুলাই মানেই আরেকটি রাজনৈতিক উত্তাল অধ্যায়ের নাম। ২০২৪ সালের জুলাই মাসটি ছিল স্বাধীনতার পর অন্যতম রক্তাক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ এক সময়। ওই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের। তবে এই বিজয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে এক হাজার চারশ শহীদ এবং প্রায় বিশ হাজার আহত মানুষের আত্মত্যাগের করুণ গল্প।

২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সহ সমগ্র কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। এই রায়ের পর থেকেই দেশে শুরু হয় কোটা বিরোধী আন্দোলন। আর ঠিক ১ জুলাই সেই আন্দোলন রূপ নেয় একটি বৃহত্তর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। সেদিন থেকেই শুরু হয় শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের পতনের গল্প।

কিন্তু ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে সম্মান না জানিয়ে, বরং গণমাধ্যমে তাদের ‘রাজাকার’ তকমা দেন। এর পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। কোটা বিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের দাবিতে উত্তাল এক গণআন্দোলনে।

সরকার আন্দোলন দমনে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর চালায় চরম দমন-পীড়ন। চালানো হয় গুলিবর্ষণ, গ্রেফতার ও নির্যাতন। কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি জনগণের ক্ষোভ। বরং বন্দুকের মুখেও নিভে যায়নি সেই আগুন। শেষ পর্যন্ত সেই আগুনেই পুড়ে ছারখার হয়ে যায় স্বৈরাচারের সিংহাসন।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রস্থল শহীদ মিনার চত্বরে লাখো মানুষের জমায়েতে এক দফা দাবি জানানো হয়—শেখ হাসিনার পদত্যাগ। তার ঠিক পরদিন, ৪ আগস্ট, মরণ কামড় দেয় আওয়ামী লীগ। পুলিশের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে তাদের নেতাকর্মীরা। একদিনেই প্রাণ হারান শতাধিক মানুষ। এরপর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

তার এই প্রস্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে দীর্ঘ ১৬ বছরের এক দুঃসহ, রক্তাক্ত, স্বৈরাচারী অধ্যায়ের। শুরু হয় নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন। যে জুলাই দেখিয়েছিল বৈষম্যহীন এক দেশ গঠনের আশা সেই আশার কতটা বাস্তবায়ন হবে, কতটা রয়ে যাবে স্বপ্নই সেই প্রশ্নই এখন ঘুরে ফিরে বেড়ায় কোটি মানুষের মনে।


জুলাই ২০২৪ কেবল একটি মাস নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি ত্যাগের উপাখ্যান এবং জনগণের জাগরণের রূপক। সেই মাস স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই পারে স্বৈরাচারকে পরাজিত করতে। তবে নতুন বাংলাদেশের পথ কতটা সুগম হবে, তা নির্ভর করছে সেই ইতিহাসের পাঠকে আমরা কতটা ধারণ করতে পারি, তার ওপর।