বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ই জুলাই ২০২৫ রাত ০৮:৪৭
২৭৩
বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী নির্মল গ্রাম তুলাতলি। এই গ্রামের একজন সংগ্রামী নারী মনোয়ারা বেগমের অদম্য প্রচেষ্টা ও অসাধারণ সাফল্য আজ হাজারো নারীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ বা বড় পুঁজি ছাড়াই, মাত্র তিন হাজার টাকায় ভাইয়ের কাছ থেকে কেনা একটি ছাগল নিয়ে শুরু করা তার যাত্রা এখন একটি অনুকরণীয় গল্পে রূপ নিয়েছে। প্রথাগত পদ্ধতি পরিহার করে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে ছাগল পালনের মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বরং তুলাতলি গ্রামের নারীদের জন্য হয়ে উঠেছেন এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।
মনোয়ারার জীবন ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। স্বামীর হৃদরোগ তাকে ভারী কাজ থেকে দূরে রেখেছে। ফলে সংসারের দায়িত্ব তাকেই কাঁধে তুলে নিতে হয়। ভাইয়ের দেওয়া তিন হাজার টাকায় কেনা একটি ছাগল নিয়ে শুরু হয় তার উদ্যোগ। আজ তার খামারে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লেগেছে। ছেলে ও পুত্রবধূর সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই খামার এখন তাদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মনোয়ারা বলেন, “একটি ছাগল দিয়ে আমার পথচলা শুরু। আল্লাহর রহমতে এখন আর কারও দিকে তাকাতে হয় না। গত কোরবানির ঈদে বেশ কয়েকটি ছাগল বিক্রি করেও আমার খামারে এখন নয়টি ছাগল রয়েছে। আমরা ছাগলের জন্য উন্নত জাতের ঘাসও চাষ করি।” চলতি বছর তিনি ষাট হাজার টাকার বেশি মূল্যের ছাগল বিক্রি করেছেন, যা তার পরিবারকে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে।
মনোয়ারার এই সাফল্য তুলাতলি গ্রামে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। তার পথ ধরে উৎসাহিত হয়েছেন গ্রামের সালমা বেগম, মিনারা বেগম, মরিয়ম, বিবি রাশিদাসহ আরও অনেক নারী। তারাও এখন আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে ছাগল পালনে ঝুঁকছেন। মিনারা বেগম বলেন, “আগে সাধারণ পদ্ধতিতে ছাগল পালতাম, প্রায়ই রোগে মারা যেত। মাচা পদ্ধতিতে পালন করায় এখন রোগবালাই কম, আর আমরাও লাভবান হচ্ছি।”
এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘আরএইচএল প্রকল্প’। স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) এই প্রকল্পের আওতায় নারীদের কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং মাচা তৈরির সম্পূর্ণ খরচসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। ইতোমধ্যে ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৩৭৫ জন নারীকে এই প্রকল্পের আওতায় মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার উপ-পরিচালক ও কৃষিবিদ আনিসুর রহমান বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ নারীদের মধ্যে টেকসই সক্ষমতা তৈরি করা। মাচা পদ্ধতি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর। আমরা নারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং তাদের আত্মবিশ্বাস দেখে আমরা আশাবাদী যে এই মডেল গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও স্থায়ী পরিবর্তন আনবে।”
ভোলা জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম খান এই উদ্যোগের ভ‚য়সী প্রশংসা করে বলেন, “মাচা পদ্ধতি একটি বিজ্ঞানসম্মত ও লাভজনক উপায়। এর মাধ্যমে অল্প জায়গায় বেশি ছাগল পালন সম্ভব এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়ানো যায়, ফলে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা সরকারি পর্যায়ে এই খামারিদের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।”
একসময়ের অসহায় মনোয়ারা বেগম আজ একজন সফল খামারি ও উদ্যোক্তা। একটি ছাগল থেকে শুরু হওয়া তার খামার এখন শুধু তার পরিবারের জন্যই নয়, তুলাতলি গ্রামের নারীদের জন্যও স্বপ্ন দেখার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত
মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন
সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী
চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন
জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী
সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার
আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী
ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু
ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক