অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ই জুলাই ২০২০ রাত ১০:৫৪

remove_red_eye

৮৮২




আকতারুল ইসলাম আকাশ : আর মাত্র ২ সপ্তাহ বাকি। তারপরই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এই ঈদে মহান আল্লাহর সন্তুটি লাভের জন্য পশু কোরবানি দেয়া হয়। এ সময় বিশেষ করে গরু, ছাগল বেশী চাহিদা থাকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে এবার চিত্র ভিন্ন ।  করোনার কারনে ক্রেতা কম হওয়ার আশংকায় দু:চিন্তায় রয়েছে।  তার পরও শেষ সময়ে ভোলায় বিভিন্ন খামারে প্রাকৃতিক ভাবে কোরবানীর পশু মোটাতাজা করনের কাজে ব্যস্ত রয়েছে খামারিরা। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ভোলার বিভিন্ন খামারে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক গবাধি পশু। অপর দিকে অনলাইনে পশু কেনাকাটা করতে তেমন একটা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না খামারীরা।       
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার খামারী দিন রাত প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করনে কাজ করছে। প্রতিটি খামারে ছোট, মাঝারি ও বড় সবধরণের কোরবানির পশু রয়েছে। খামারে থাকা পশু দিয়েই মিটবে জেলার ৮০ ভাগ চাহিদা এমনটা মনে করছেন অনেকে। তবে চলতি পরিস্থিতিতে কোরবানির পশু ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিয়ে খামারিদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। 
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, খামারিদের লাভের কথা মাথায় রেখে অনলাইনে কেনাবেচার পাশাপাশি কম খরচে পশু মোটা তাজা করণের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তবে অনলাইনে পশু কেনাকাটা করতে তেমন একটা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না কেউই।       
খামার মালিক জসিম তালুকদার ও মনির হোসেন বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে অনেক খামারের আকার ছোট করা হয়েছে। তাছাড়া পশুখাদ্যের দাম বিগত বছর থেকে এবার বেড়েছে। এতে করে খামারের খরচ বেড়েছে। আমরা লাভের আশায় দিন-রাত কাজ করলেও গত ২/৩ বছর তুলনায় এবার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবার আশঙ্কা করছি। তবে এবার প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে গরু না এলে আমাদের কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে আশা করছি।
দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের খামারী মো. জসিম বলেন, আমার খামারে ৬০ টি গরু রয়েছে। জমিদার নামে একটি গরুর দাম হাকাচ্ছেন ৫ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছোলা, বুট, ডালসহ ভাল ভাল খাবার খাইয়ে পালন করেছি এখন সঠিক দাম পাব কি না তা নিয়ে চিন্তিত। ক্রেতারা জমিদারের যে দাম হাকাচ্ছে তাতে আমার লাকসান হবে। 
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত কুমার মন্ডল বলেন, জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারীদের ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এবার কোরবানির চাহিদা একটু কম। অনলাইনে পশু কেনা বেচার জন্য খামারিদের নিয়ে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে অনলাইলে গবাধি পশু কেনা বেচা হবে। তবে অনলাইনে পশু কেনাকাটা করতে তেমন একটা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না কেউই।