অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় দুই ভাইকে গলা কেটে নৃশংস ভাবে হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে ফেলার মামলায় ৩ জনকে মৃত্যু প্রদান


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ই আগস্ট ২০২৫ রাত ০৮:৫৬

remove_red_eye

২২৩

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় দুই ভাইকে গলা কেটে নৃশংস ভাবে হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে ফেলার মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার জেলার চরফ্যাশন উপজেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এডিশনাল জজ শওকত হোসাইন এই রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন , মামলার প্রধান তিন আসামি শরীফুল হোসেন , বেলাল ও সালাউদ্দিন। এছাড়াও বাকি দুই আসামির মধ্যে আবুল কাশেম ৫ মাস  ও আবু মাজিকে ছয়মাস কারাদণ্ড প্রদান করেন।
জানাযায়, ২০২১ সনের ৭ এপ্রিল বিক্রিত জমির মূল্যের টাকা হাতিয়ে নিতে সনাতন ধর্মের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুলাল চন্দ্রশীল ও তপন চন্দ্র শীলকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা বিচ্ছিন্ন করে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের পরিত্যক্ত বাগানে পেট্রোল দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে গুমের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ৫ আসামী। 
ঘটনার একদিন পর পুলিশ ওই ইউনিয়নের সুন্দরীর খাল সংলগ্ন বাগান থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন দুই পোড়া বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ  ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় সনাক্ত হলে নিহতদের ছোট ভাই নিপেন চন্দ্র সরকার ২১ সনের ৯ এপ্রিল বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে চরফ্যাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।পরে পুলিশের তদন্তে জোড়া খুনের সাথে জড়িত মো. শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর খুনের রহস্য উদঘাটন হয়। তার দেয়া তথ্য মতে ওই গ্রামের শৌচাগারের সেপটি ট্যাংক থেকে দুইটি  মাথার খুলি ও ঘটনাস্থল সংলগ্ন সুন্দরী খাল থেকে খুনের কাজে ব্যবহারিত অস্ত্র ও ঘটনাস্থলের বাগান থেকে খুনের আলামত জব্দ করেন। 
চরফ্যাসন এডিশনাল পিপি এডভোকেট হযরত আলী হিরন সাংবাদিকদের জানান, চরফ্যাসন আদালতে এই সর্বপ্রথম একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির রায় প্রদান করা হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে তিন আসামীর মধ্যে একজন জেল হাজতে রয়েছেন।অপর দুইজন চার্জগঠনের আগে থেকেই পলাতক ছিলেন। তাদের অনুউপস্থিতে এ রায় প্রদান করা হয়। এই হত্যা মামলার রায়প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করেন এই মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী হযরত আলী হিরণ বলেন, এটি হচ্ছে ভোলার চরফেশন উপজেলার ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হলো এখনো দেশে ন্যায় বিচার রয়েছে। এর জন্য তিনি এই মামলার বিচারক এডিশনাল জজ শওকত হোসেনের প্রতি ধন্যবাদ অকৃতজ্ঞতা জানান।