অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় পতিত বাড়ছে আবাদ


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাত ১০:২৫

remove_red_eye

৩১৩

বাংলার কন্ঠ ডেস্ক: ভোলার সাত উপজেলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে কৃষি আবাদ। এতে কমছে পতিত জমি। রবি মৌসুমে পতিত জমির পরিমাণ নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। সরকারি সহযোগিতায় আগের চেয়ে বেশি আবাদে ঝুঁকছেন বলে জানান কৃষকরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন ধান ও বিভিন্ন সবজি আবাদ করেছেন কৃষকরা। এরই মধ্যে কিছু কৃষক সবজি বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই ধান কাটার উপযোগী হবে। বর্ষার মৌসুম হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক পিরামিড ও মাচা পদ্ধতিতে সবজির চাষ করেছেন। জেলায় আবাদহীন পতিত জমির দেখা মেলে না।
‘রবি মৌসুমে প্রতি বছর বিভিন্ন সবজি, সরিষা ও গম চাষ করি। খরিপ-১ ও ২ এর সময় জমি খালি থাকতো। কিন্তু গত বছর কৃষি অফিস থেকে সরকারিভাবে ধানের বীজ ও সার-ওষুধ পেয়ে ধানচাষে ভালো লাভবান হয়েছি। তাই চলতি মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি।’
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। ২০২৪-২৫ থেকে রবি মৌসুমে পুরো জমিতেই সবজি, গম, সরিষা, সয়াবিনসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ হচ্ছে। খরিপ-১ এ গত মৌসুমে ৭৫ হাজার ২ হেক্টর জমিতে চাষ রয়েছে। যা এর আগের মৌসুম থেকে ৩ হাজার হেক্টর বেশি। খরিপ-২ এ গত মৌসুমে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমি। যা এর আগের মৌসুম থেকে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বেশি।
ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চর ভেদুরিয়া গ্রামের কৃষক মো. বজলুল জানান, তার বাবা-দাদা কৃষি কাজ করতেন। তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষিকাজ করেই তার সংসার পরিচালনা হয়। তিনি বিগত বছরে খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমে ধানচাষ করতেন। এরপর রবি মৌসুমে তিনি কিছু করতেন না। কিন্তু গত কয়েক বছর কৃষি অফিস থেকে তাকে রবি মৌসুমে প্রদর্শনী ও প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি গ্রহণ করেননি। তাই রবি মৌসুমে ওই জমি খালি থাকতো। তবে গত বছর থেকে তিনি কৃষি অফিসের সহোগিতা পেয়ে বিভিন্ন মৌসুমে সবজি, সরিষা চাষ করেছেন। এতে সফলতাও পেয়েছেন। তাই এ বছর রবি মৌসুমে তিনি আরও বেশি জমিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা করেছেন।
‘জেলার সাত উপজেলায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক সংখ্যা রয়েছেন ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭০১ জন। জেলায় মোট জমির পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ হেক্টর। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলায় রবি মৌসুমে কোনো জমি খালি ছিল না।’
দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন মদনপুর গ্রামের কৃষক মো. মনির হেসেন বলেন, আমি রবি মৌসুমে প্রতি বছর বিভিন্ন সবজি, সরিষা ও গম চাষ করি। খরিপ-১ ও ২ এর সময় জমি খালি থাকতো। কিন্তু গত বছর কৃষি অফিস থেকে সরকারিভাবে ধানের বীজ ও সার-ওষুধ পেয়ে ধানচাষে ভালো লাভবান হয়েছি। তাই চলতি মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। তার দাবি, বিগত দিনে জমি ফাঁকা রেখে লোকসান হয়েছে। আগামীতে কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা না করলেও তিনি আউশ ও আমন ধানের চাষ করবেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চর গঙ্গাপুর গ্রামের কৃষক মো. সোহাগ জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। আগে প্রায় ৮ একর জমিতে আউশ ও আমন ধানের চাষ করতেন। রবি মৌসুমে ৩ একর জমিতে সরিষা, গম ও ভূট্টা চাষ করতেন। বিগত কয়েক বছর বেশ লাভ হওয়ায় গত বছর তিনি ৬ একর জমিতে চাষ করেছেন। এবছর তিনি নিজের ৮ একর জমির পাশাপাশি আরও কিছু জমি বর্গা নিয়েও চাষ করবেন বলে জানান।
চরফ্যাশন উপঝেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের মাদ্রাজ গ্রামের কৃষক মো. সাহাবদ্দিন জানান, তিনি প্রতি বছরই প্রায় ১৫ একর জমিতে চাষাবাদ করেন। বর্ষার মৌসুমে তার জমিতে অতি জলাবদ্ধতার কারণে আউশ ও আমন ধানের সর্বোচ্চ ৬ একরর বেশি পারছিলেন না। এ বছর তিনি ধানের পাশাপাশি ৫ একর জমিতে জমি উঁচু করে মাচা পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। এতে সবজির ভালো ফলন হয়েছে। বিক্রি শুরু করেছেন তিনি।
একই উপজেলার আমেনাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মা. নজরুল ইসলাম বলেন, তার প্রায় ১৩ একর জমি থাকলেও খরিপ-১ মৌসুমে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে পারেন না। আর খরিপ-২ এর সময় ৭-৮ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করতে পারেন। রবি মৌসুমে পুরো জমিতেই সবজি, গম, সরিষা, সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করন।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. খাইরুল ইসলাম মল্লিক জানান, জেলার সাত উপজেলায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক সংখ্যা রয়েছেন ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭০১ জন। জেলায় মোট জমির পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ হেক্টর। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলায় রবি মৌসুমে কোনো জমি খালি ছিল না।
তিনি আরও বলেন, তবে খরিপ-১ এ প্রচণ্ড রোদ, অতি খরা, লবণাক্ততা ও সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমি খালি ছিল। অতি জলাবদ্ধতার কারণে খরিপ-২ এ সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমি খালি ছিল। কিন্তু চলতি রবি মৌসুমে কোনো খালি থাকবে না। পাশাপাশি খরিপ-১ ও ২ এর মৌসুমে আগের বেশি অনেক বেশি জমিতে চাষাবাদ হবে। এজন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

 





তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

আরও...