অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলা-১ আসনে ব্যতিক্রমী প্রার্থী এনপিপি’র প্রার্থী মিজানের বার্ষিক আয় ১০ হাজার টাকা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ই জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৫:১৫

remove_red_eye

৪১৫

     নির্বাচনে ব্যয় মাত্র ৩০ হাজার টাকা

নাসির লিটন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের যখন কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের ছড়াছড়ি তখন ব্যতিক্রম এক প্রার্থী পাওয়া গেছে ভোলা-০১ (সদর) আসনে। যার বার্ষিক আয় মাত্র ১০ হাজার টাকা। সহায়-সম্পদ বলতে আছে পিতার জমিতে ৩০ হাজার টাকার একটি কাঁচা ঘর। যা তার মাথা গোজাবার একমাত্র সম্বল। রাজনৈতিক দলের দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ও হাজার বছরের নির্যাতিত-নিষ্পেশিত মানুষের হয়ে কথা বলতে জাতীয় সংসদে যেতে চান মিজান। নির্বাচনের ব্যয় করবেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা। যা বন্ধু –-স্বজনদের সহায়তায় পাওয়া। ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সদর উপজেলা থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাওয়া ২৬ হাজার ভোটারের সমর্থন থেকেই তিনি সংসদ নির্বাচন করার অনুপ্রেরণা পান।
কবি মোঃ মিজানুর রহমান দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-০১ আসন থেকে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ। মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা ভোটারদের স্বাক্ষরের গড়মিলের কারণে বাতিল হয় মিজানের মনোনয়ন। সেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে এবার তিনি এনপিপি’র (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) প্রার্থী হিসাবে ‘আম প্রতীকে’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা হলফনাা ও আয়কর বিববরণীতে দেখা যায়, টিউশনি থেকে তার বার্ষিক আয় মাত্র ১০ হাজার টাকা। নিজের নেই কোন জমি জমা। বাবার ৩ শতাংশ জমিতে একটি কাঁচা ঘর তুলে বসবাস করেন। যার দাম উল্লেখ করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। বিবরণীর বাকী সবগুলো ঘরই ফাঁকা। দিতে হয় না কোন আয়কর। ভোলা জেলার চারটি আসনে বৈধ ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম আয় তার। নির্বাচনী ব্যয় উল্লেখ করেছেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা। নেই কোন ফৌজদারী মামলাও।
সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরকালী গ্রামের পল্লী চিকিৎসব শাহ আলমের ছেলে মিজানুর রহমান। ১৯৮৮ সালে জন্ম নেয়া মিজান ২০০৫ সালে এসএসসি পাশ করেন। দেশ প্রেমের স্বপ্ন নিয়ে ২০০৭ সালে নাবিক হিসাবে যোগদেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। কঠোর নিয়মনীতির মধ্যে ভালো কাটছিল না সাহিত্য প্রেমি কবি মিজানের জীবন। ২০১৯ সালে স্বেচ্ছায় চাকরী থেকে অব্যহতি নিয়ে ফিরে আসেন নিজ গ্রামে। কবিতা লেখার পাশাপাশি গ্রামের শিশুদের প্যারাইভেট পড়ানো শুরু করেন। চাকুরী থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে ঢাকার এক তরুনীকে বিয়ে করেছিলেন। অভাব আর টানা পড়েনের সংসার ভালো না লাগায় ২০১৯ সালে মিজানকে ছেড়ে তার স্ত্রী অন্যের সাথে সংসার বাঁধেন।
মিজানুর রহমান জানান, প্রার্থী হওয়ার কারণে গেল ডিসেম্বর মাসে ভোলার অগ্রণী ব্যাংকে একটি হিসাব খুলেছেন তিনি। নির্বাচনে টিআইএনÑএর বাধ্যবাধকতার কারণে আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন। টাকা ও  পেশীশক্তির বিরুদ্ধে এ লড়াইকে ‘দুর্গম যাত্রা’ বলে অবহিত করেছেন মিজান। তিনি বলেম মাফিয়ার যুগে টাকা ছাড়া জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া যায় না। অর্থ- পেশিশক্তি ব্যবহার করে যারা নির্বাচতি হন পরবর্তীতে তারা মানুষের কথা বলেন না। নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে থাকেন না। তিনি সেসব বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হতে চান। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি না দিয়ে, নির্বাচিত হতে পারলে জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করবেন। কোন পোস্টার ব্যানার করবেন না। নিজের ১০ হাজার ও বন্ধু-স্বজনদের সহায়তার ৩০ হাজার টাকা দিয়ে লিফলেট করবেন। ওই লিফলেট নিয়েই তিনি যাবেন ভোটারদের কাছে। তার প্রচার- প্রচারণায় থাকবে না কোন বহর।
বিগত দিনের নির্বাচন নিয়েও মিজানুর রহমানের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-০১ (সদর) আসন থেকে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। মিজানের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে তৎকালিন জেলা প্রশাসককে দিয়ে তার মনোনয়পত্র বাতিল করেছেন। তাকে নানা ভাবে হয়রানীও করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। একা একাই গেছেন ভোটারদের কাছে। দরিদ্র ভোটারদের উন্নয়নে সমর্থন চেয়েছেন। সে নির্বাচনে তিনি ২৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী প্রভাব খাটিয়ে বিজয়ী হন। মিজানের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের মধ্যে তিনি প্রায় ২৬ হাজার ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই এবার সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন। কোন মিছিল, শ্লোগান প্রচারণার বহর ছাড়াই মিজান যাচ্ছেন প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে। স্বপ্ন তার অনেক আশা বঞ্চিদের সেবা করার।
২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায়, নির্ভরশীলদের নামে ৫০ হাজার টাকার বাড়ি দেখিয়েছেন। সেখানেও আর কোন সম্পত্তির কথা উল্লেখ ছিল না। 





তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

আরও...