অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৯ই জুলাই ২০২৬ | ২৫শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ১৪ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:০২

remove_red_eye

১৪৫

অচিন্ত্য মজুমদার : পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ভোলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা চলছে। বেশি দামে বিক্রির আশায় জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন, আর ঘাটগুলোতে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ, যার দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
সোমবার সকাল থেকে ভোলার দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল মাছঘাট, চৌকিঘাট ও সদর উপজেলার ভোলারখাল ও ইলিশা মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক নৌকা ভিড়ছে। নৌকা থেকে নামানো ইলিশ দ্রুতই আড়তদার ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন জেলেরা। বাইরে থেকে এটি স্বাভাবিক বেচাকেনা মনে হলেও বাস্তবে পুরো কার্যক্রমই চলছে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে। 
মৎস্য বিভাগ মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এই সময় সব ধরনের মাছ ধরা, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে মনপুরার চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনার ৯০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে যে আকারের ইলিশ এক হালি (চারটি) চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি হচ্ছে নয় থেকে ১০ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালিও ছয় থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
দৌলতখান পাতার খাল মাছ ঘাটে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা আছে জানি, কিন্তু পেট তো মানে না। বৈশাখে মাছের দাম বেশি, এই সময় না ধরলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।”
সেখানকার আড়তদার ইউসুফ মুন্সী বলেন, “চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। ক্রেতারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন। আমরা শুধু বিক্রি করছি।”
সদর উপজেলার বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও কামরুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ঐতিহ্যের কারণে চড়া দামেও অনেকে ইলিশ কিনছেন। পরিবারের নারী ও বাচ্চারা বায়না ধরে পান্তা ইলিশ খাওয়ার জন্য। তাই একটা দিনের জন্য দামের দিকে না তাকিয়ে মাছ পাওয়াটাই আমরা গুরুত্ব দেই।
তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “পহেলা বৈশাখের সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক সম্পর্ক নেই। আমরা ইলিশকে উৎসাহিত করতে চাই না। এই সময় ইলিশ ধরা বন্ধ না হলে এর প্রজনন ব্যাহত হবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা চলছে। কেউ আইন অমান্য করে মাছ ধরলে বা বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৩৩ শতাংশ আসে। ফলে এই অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় পর্যায়েও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 





শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এসোসিয়েশনের ভোলা জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এসোসিয়েশনের ভোলা জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

মনপুরায় ১০ গ্রামে অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি ১৫ হাজার বাসিন্দা

মনপুরায় ১০ গ্রামে অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি ১৫ হাজার বাসিন্দা

সারা দেশের সাথে নৌযোগাযোগ বন্ধ, বিচ্ছিন্ন মনপুরা

সারা দেশের সাথে নৌযোগাযোগ বন্ধ, বিচ্ছিন্ন মনপুরা

চরফ্যাশনে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জরুরি ওষুধ বিতরণ

চরফ্যাশনে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জরুরি ওষুধ বিতরণ

আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান বাংলাদেশের

আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান বাংলাদেশের

স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান

জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান

বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

আরও...