অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ১৪ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:০২

remove_red_eye

৯৪

অচিন্ত্য মজুমদার : পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ভোলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা চলছে। বেশি দামে বিক্রির আশায় জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন, আর ঘাটগুলোতে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ, যার দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
সোমবার সকাল থেকে ভোলার দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল মাছঘাট, চৌকিঘাট ও সদর উপজেলার ভোলারখাল ও ইলিশা মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক নৌকা ভিড়ছে। নৌকা থেকে নামানো ইলিশ দ্রুতই আড়তদার ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন জেলেরা। বাইরে থেকে এটি স্বাভাবিক বেচাকেনা মনে হলেও বাস্তবে পুরো কার্যক্রমই চলছে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে। 
মৎস্য বিভাগ মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এই সময় সব ধরনের মাছ ধরা, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে মনপুরার চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনার ৯০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে যে আকারের ইলিশ এক হালি (চারটি) চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি হচ্ছে নয় থেকে ১০ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালিও ছয় থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
দৌলতখান পাতার খাল মাছ ঘাটে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা আছে জানি, কিন্তু পেট তো মানে না। বৈশাখে মাছের দাম বেশি, এই সময় না ধরলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।”
সেখানকার আড়তদার ইউসুফ মুন্সী বলেন, “চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। ক্রেতারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন। আমরা শুধু বিক্রি করছি।”
সদর উপজেলার বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও কামরুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ঐতিহ্যের কারণে চড়া দামেও অনেকে ইলিশ কিনছেন। পরিবারের নারী ও বাচ্চারা বায়না ধরে পান্তা ইলিশ খাওয়ার জন্য। তাই একটা দিনের জন্য দামের দিকে না তাকিয়ে মাছ পাওয়াটাই আমরা গুরুত্ব দেই।
তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “পহেলা বৈশাখের সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক সম্পর্ক নেই। আমরা ইলিশকে উৎসাহিত করতে চাই না। এই সময় ইলিশ ধরা বন্ধ না হলে এর প্রজনন ব্যাহত হবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা চলছে। কেউ আইন অমান্য করে মাছ ধরলে বা বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৩৩ শতাংশ আসে। ফলে এই অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় পর্যায়েও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 





চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ভোলায় ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ভোলায় ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

ভোলার ভেদুরিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ঈদ সামগ্রী বিতরণ

ভোলার ভেদুরিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ঈদ সামগ্রী বিতরণ

মাদক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ভোলায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাদক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ভোলায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আরও...