অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে মে ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

remove_red_eye

৫৮

বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক: ভোলায় কোনো প্রকার তদবির ছাড়াই মাত্র ১২০টাকায় বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন ৩৩জন তরুণ। মাস ব্যাপী নিয়োগ কার্যক্রম শেষে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের সময় আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন চাকরি প্রত্যাশীরা।  সোমবার (১৮মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪২জনের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন শেষে বিকেল ৫টায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ৩৩জনকে উত্তীর্ণ ও ৪জনকে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে বেশীরভাগই কৃষক, জেলে, দিনমজুরসহ মধ্যবিত্ত পরিবার সন্তান। ফলাফল ঘোষণার সময় চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে আবেগন পরিবেশ তৈরী হয়।
চাকরি পাওয়া ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা মো. ইয়াকুব শরীফ জানান, তার বাবা এক জন গরীব কৃষক। পরিবারে অবস্থা অনেকটা নাজুক। তাই তিনি এর আগে আরো দুই বার পুলিশে চাকরি জন্য আবেদন করেছেন। প্রতিবারই লিখিত পরীক্ষায় খারাপ করেন। পরিবারে অসহায়েত্বের দিকে তাকিয়ে এবারও পুলিশের চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। তবে এবার তিনি লিখিত পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছেন। তিন বারের প্রচেষ্টায় সফলতা পেয়ে তিনি অনেক খুশি। তার চাকরি নিতে সরকারি ফি মাত্র ১২০টাকা দিতে হয়েছে।
অপর চাকরি প্রত্যাশী মো. জিদান জানান, তিনিও তিন বার পুলিশে চারকির জন্য আবেদন করেছেন। এর আগের দুইবার লিখিত পরীক্ষায় গিয়ে বাদ পড়েছেন। তবে এবার চাকরির প্রতিটি ধাপে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবার আবেদন করার পর অনেকে বলেছেন পুলিশের চাকরি নিতে ১০লাখ টাকা লাগবে। তাই তিনি লিখিত পরীক্ষা দিয়ে চাকরি আশা ছেড়েই দিয়েছেন। তবে পরীক্ষার রেজাল্ট তাকে অনেকটা অবাক করে দিয়েছে। তার সাথের এক বন্ধুর রেজাল্ট নিতে এসে দেখেন বন্ধুর নাম ঘোষণার আগে তার নাম ঘোষণা করা হয়। এতে তিনি অনেক আনন্দিত। কোনো প্রকার টাকা ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
 ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার জানান, ২০২৬ সালের বাংলাদেশ পুলিশের ট্্েরইন রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ভোলা জেলায় মোট এক হাজার ৫৩৮জন আবেদন করেন। শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার সাতটি ইভেন্টে ৪৬০জন উত্তীর্ণ হয়। পরে এরা সকলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ৪২জন পাশ করেন। এদের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় ৩৩জন নির্বাচিত হয়েছেন এবং অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছেন আরো ৪জন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরেপেক্ষতা ও মেধার ভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত এ সকল নবীন সদস্য ভবিষ্যতে জনগণের জানমাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবিক কার্যক্রমে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখবে। একই সাথে সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে তারা দায়িত্ব পালন করবে। এ নিয়োগ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ সকলের সহযোগীতার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি।