অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৪শে মে ২০২৬ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সংকট বিকল অ্যাম্বুলেন্স ও বিদ্যুৎহীনতায় দুর্ভোগে দেড় লাখ মানুষ


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪শে মে ২০২৬ রাত ১০:০১

remove_red_eye

৩০

মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার দেড় লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার একমাত্র সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও অচল অ্যাম্বুলেন্সের কারণে কার্যত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দ্বীপবাসী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিন মাস ধরে রোগী পরিবহনকারী একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি ইঞ্জিন বিকলের কারণে অচল হয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে গত বছর নদী পারাপারের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটিও এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে সিজারিয়ান অপারেশনসহ জটিল রোগীদের নদীপথ পাড়ি দিয়ে ভ্যানগাড়ি ও ছোট নৌকায় করে অন্যত্র নিতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় পথেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা।
২০১৪ সালে ৩১ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবন নির্মাণ ও উদ্বোধন করা হলেও আজও ৩১ জনবলের কাঠামো দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। পর্যাপ্ত জনবল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি আরজু বেগম নামে এক রোগীকে গভীর রাতে ভ্যানগাড়িতে করে ঘাটে নিয়ে স্পিডবোটযোগে নোয়াখালী  পাঠানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। রোগীর স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স বিকল থাকায় ভ্যানগাড়িতে করে ঘাটে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ছোট ট্রলারযোগে নোয়াখালী হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী আমিন, কাদের ও সফিজল অভিযোগ করে বলেন, দিনে-রাতে মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রবেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন,  চরম সংকটের মধ্যেও চিকিৎসকরা দিন-রাত দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অ্যাম্বুলেন্স বিকলের বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চরফ্যাশন-মনপুরার সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করতে প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় কেউ ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করলে দ্বীপের অসহায় রোগীদের সেবায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।