অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ১২ই জুলাই ২০২৬ | ২৮শে আষাঢ় ১৪৩৩


দেশে ফিরলেই কারাগারে যেতে হবে হাসিনাকে: চিফ প্রসিকিউটর


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ই জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৫৫

remove_red_eye

৩৮

বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন পাওয়ার নজির নেই, তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো হলে শুরুতেই তাকে কারাগারে যেতে হবে।

রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।

দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান কেমন হবে— এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জামিন হয়েছে, এমন নজির নেই। ফলে দেশে আনা মাত্রই তাকে প্রথমে জেলে যেতে হবে এবং এরপর তার আপিল করার আইনি অধিকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী দেশে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

সম্পত্তির বর্তমান আইনি অবস্থা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সেন্টেন্সের (দণ্ডাদেশ) সঙ্গে কিন্তু তার সম্পত্তি যেগুলো আছে বাংলাদেশে, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সেটাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অতএব তার ব্যাংকে যদি কোনো টাকা থাকে, তার যদি ইমমুভেবল (স্থাবর) কোনো প্রোপার্টি থাকে, তাহলে সেটা কিন্তু এখন রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত। এটার মালিকানা কিন্তু আর তার নাই।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সম্পত্তি এখন সম্পূর্ণরূপে সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকায় তিনি এর কোনোটি ভোগদখল, হস্তান্তর বা ব্যবহার করতে পারবেন না। আপাতত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রচলিত আইনের মাধ্যমে এই রায় ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি যেহেতু ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন, তাই নিজের ইচ্ছায় দেশে আসার কোনো সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার ‘এক্সট্রাডিশন’ বা ‘অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি’র আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, অথবা ‘পুশব্যাক’ করা হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেকশন ২১ এর ৩ পরিষ্কার করেই বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না।

তবে সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ থাকবে কি না— এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়; তাহলে তো সংগত কারণেই যেহেতু তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে, তিনি প্রথমত জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সেই বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে।

ভবিষ্যতে আইনি সুযোগ তৈরির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয়, তাই হবে।

বিষয়টি সম্পূর্ণ আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে  দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ভারতে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই এগুলোর প্রতিবেদনও আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অভিযোগগুলোও তদন্তাধীন রয়েছে।





পানিবন্দি মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পানিবন্দি মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : স্পিকার

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : স্পিকার

বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা: রাষ্ট্রপতি

বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা: রাষ্ট্রপতি

কেবল একটি নয়, অনেক ব্যাংকে কী ঘটেছে, তদন্ত হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

কেবল একটি নয়, অনেক ব্যাংকে কী ঘটেছে, তদন্ত হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

বন্যায় ৭ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, নিহত ৫১

বন্যায় ৭ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, নিহত ৫১

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তির পথ খোঁজার আহ্বান বিএনপির

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তির পথ খোঁজার আহ্বান বিএনপির

জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশব্যাপী বিএনপি’র এক দিনের শোক

জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশব্যাপী বিএনপি’র এক দিনের শোক

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল

সরকারি ৯ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা

সরকারি ৯ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা

আরও...