অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৭শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় কমছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে জানুয়ারী ২০২১ রাত ১১:১০

remove_red_eye

৬৮১


হাসনাইন আহমেদ মুন্না : ভোলা জেলায় কমে আসছে করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা। গত বছরের ২৩ এপ্রিল এই জেলার বোরহানউদ্দিন ও মনপুরা উপজেলায় প্রথম ২ জন করোনার রোগী সনাক্ত হয়। তার পরে আগষ্ট পর্যন্ত রোগী সংখ্যা বাড়লেও সপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তা কমে আসে। এছাড়া নভেম্বরে অল্প বিস্তার ঘটলেও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ডিসেম্বর ও নতুন বছরের চলতি মাস। করোনা প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণ এবং হাত ধোওয়ার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা থাকায় এই মাহামারী ব্যাপক আকার ধারন করতে পারেনি বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় ২০২০ সালে এপ্রিল মাসে করোনার রোগী ছিলো ৫ জন। মে মাসে হয় ৩৮ জনে। জুনে ২৪৪। জুলাইতে ২৪৫। আগষ্টে ১৩০। সেপ্টেম্বরে ও অক্টোবরে ৭১ জন করে ১৪২। নভেম্বরে বেড়ে ৯৮ জনে হয়। ডিসেম্বরে ৩৭ ও চলতি মাসের  মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৯ জন আক্তান্ত হয় এই রোগে। শীতে করোনা বিস্তারে যে আসংকা করা হয়েছিলো তা মানুষের স্বাস্থ্যবিধী মেনে চলা ও ভৌগোলিক কারণে অনেকটাই রক্ষা পেয়েছে বলে সূত্র জানায়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: সৈয়দ রেজাউল ইসলাম বলেন, শীত শুরুর আগ মুহুর্তে অর্থাত করোনার দ্বীতিয় ঢেউ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, হাত ধোয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এসময় অনেককেই জেল-জরিমানার আওতায় আনা হয়। স্বাস্থ্য সচেতনতায় পোষ্টার, লিফলেট, ব্যানার, মাইকিংসহ নানান প্রচারাভিজান চালানো হয়। তাতে করে মানুষ অনেকটাই সচেতন হয়েছে কভিড-১৯ প্রতিরোধে। একইসাথে যারা বিদেশ থেকে দেশে আসে তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ভোলায় করোনায় আক্রান্ত’র সংখ্যা কম হওয়ার আরেকটি কারণ হলো এখানে সরাসরি বিদেশ ফিরতরা কম আসে। প্রথমে লোকজন বিদেশ থেকে এসে ঢাকায় অবস্থান করে, তারপরে ভোলায় আসে। এছাড়া এই জেলা দ্বীপ হওয়াতে অন্যান্য জেলার চাইতে বিচ্ছিন্ন। সেমতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত কম মানুষের যাতায়ত হয় এখানে। যেহেতু করোনার টিকা দেশে আসার অপেক্ষায় আমরা। তাই বাকি দিনগুলো সবাইকে স্বাস্থ্যবিধী মেনে চলার আহŸান জানান সিভিল সার্জন।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ৯৫৮ জন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৯২০ জন। বর্তমানে আক্রান্ত ২৯ জনের মধ্যে ১ জন ভোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরা নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৫ জন।