লালমোহন প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯ই এপ্রিল ২০২১ রাত ১০:১১
৬৭৬
মোঃ জসিম জনি/ অন্তর , লালমোহন : দারিদ্রতা জয় করে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ইশাদ ইসলাম। বাবা একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সন্তানের পড়ার খরচের জন্য রাতের বেলাও কাজ করতেন। নিজের মাথায় করে স্কুলের বেঞ্চ টানতেন তিনি। ভোলার লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইশাদের বাবা ইকবাল হোসেন। এ বছর বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে কলেজে এমবিবিএসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ইশাদ। লালমোহন পৌরসভার নয়ানিগ্রাম তাদের বাড়ি। ৩ মেয়ে ও এক ছেলে ইকবাল হোসেনের। সন্তানদের কখনও অভাব বুঝতে দেননি তিনি। সন্তানরা অত্যন্ত মেধাবী তা বুঝতে পেরে ইকবাল হোসেন ধার দেনা করেও পড়া লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় মেয়ে ইশরাত জাহান ভোলা সরকারি কলেজে অনার্স পড়ে। মেঝ মেয়ে আবিবারা এশা এবার এসএসসি দিবে। ছোট মেয়ে মহুয়া আক্তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ইশাদ লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি ও ২০২০ সালে ভোলা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ইশাদ জীবনের কোন পরীক্ষায় ফেল করেনি। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি প্রতিটি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পায় সে। পাশাপাশি পায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি।
ইশাদ জানান, লক্ষ্য ছিল মেডিকেলে পড়ব। একজন চিকিৎসক হব। আমার বাবা মা অনেক কষ্ট করে আমার পড়ার খরচ চালিয়েছেন। তাদের অনেক আশা ছিল আমাকে নিয়ে। তাই আমিও চেষ্টা করতাম। তাদের অর্থ যেন বিফলে না যায়। ঘুম, খাওয়া-দাওয়া এবং নামাজ ছাড়া দিনের বাকী সময়টুকু পড়ালেখার পেছনে ব্যায় করতাম। লকডাউনের পুরো এক বছর বাসায় পড়তাম। এইচএসসিতে অটো পাস দেওয়ায় নিজের কাছে ভালো লাগলো না। তখন নিজেকে আরও বেশি প্রমান করতে পড়ালেখার গতি আরও বাড়িয়ে দিলাম। যাতে কেউ অটোপাস নিয়ে কথা বলতে না পারে।
ইশাদের বাবা ইকবাল হোসেন জানান, আমি সামান্য একজন কর্মচারী। স্কুলে গেলে আমি দাঁড়িয়ে থাকি। আমি চাই আমার ছেলেমেয়েরাও যেন দাঁড়িয়ে না থাকে। তারা নিজেদের যোগ্যতায় যোগ্যতম স্থানে বসে। আমি ইশাদের স্কুলে যাওয়ার সময় তার ব্যাগ কাঁধে করে বহন করতাম। ব্যাগের বইয়ের ওজন যেন তার কষ্ট না হয়। মাঝে মধ্যে অসুস্থ হলে বা ঝড়বৃষ্টি এলে ইশাদকে স্কুলে যেতে বারন করতাম। কিন্তু সে শুনত না। একদিন স্কুলে যেতে না পারলে সে কান্নাকাটি করত। আমার সন্তানদের পড়ার খরচের জন্য রাতের বেলাও স্কুলের কাজ করেছি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি, জমিও বিক্রি করেছি। তবুও ওদের পড়ার খরচের অভাব বুঝতে দেইনি। ওদের সর্বোচ্চ পড়ালেখার জন্য প্রয়োজনে আমি সব জমি বিক্রি করে দিয়ে হলেও ওদের স্বপ্ন পুরন করব।
ইশাদের মা জেসমিন একজন গৃহিনী। তিনি জানান, গভীর রাত পর্যন্ত ও পড়ালেখা করত। আমি ওকে ঘুমাতে বললে ও বলত ‘তোমাদের কষ্ট যেদিন স্বার্থক হবে সেদিন আমি ঘুমাব’।
ইশাদ নিজের সফলতার পিছনে বাবা মায়ের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও অনুপ্রেরণা রয়েছে বলে জানান। ইশাদ পরিপূর্ণ চিকিৎসক হতে পারলে গরীব ও অসহায় মানুষের সেবা করবেন। যাদের টাকা নেই তাদের ফ্রি চিকিৎসার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ইশাদ বলেন, সবসময় সফলদের অনুসরন করা উচিত। লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে সফল হওয়া যাবে। এই লক্ষ্যটাই একদিন জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।
তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত
মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন
সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী
চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন
জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী
সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার
আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী
ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু
ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক