অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে ভোলায় তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ই এপ্রিল ২০২২ রাত ১১:৩৮

remove_red_eye

৪০০



 বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিসব ২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল সকালে ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ঘুইংগারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে  জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভোলা জেলা তথ্য অফিসার মোঃ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দৈনিক বাংলার কন্ঠের সম্পাদক ও ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম হাবিবুর রহমান।  । বিশেষ অতিথি ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীন সাংবাদিক আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের , ঘুইংগারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ মালেক। সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে রাখেন জেলা তথ্য অফিসার  মোঃ নুরুল আমিন। এ সময় বক্তারা বলেন, ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসি মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। এর আগে ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। সেই ধারবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলায় অস্থায়ী সরকার শপথ নেয়। ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বেতার ভাষণ দেন। তার ভাষণ আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। ভাষণে তিনি দেশব্যাপী পরিচালিত প্রতিরোধযুদ্ধেও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এ ছাড়াও, ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়।
তাজউদ্দিনের ভাষণের মধ্য দিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারেন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে। এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগওে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী সরকারের অধ্যাদেশ ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি এক সাক্ষাতাকারে বলেন, ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের নির্বাচিত জাতীয় প্রদেশিক পরিষদ সদস্যরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি গোপনস্থানে মিলিত হয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) নির্বাচিত করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম পরে তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন। অনুষ্ঠানে অত্র বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।