অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


সাবমেরিন ক্যাবলে ত্রুটি: ভোলার চরের বাসিন্দারা প্রায় ২ মাস বিদ্যুৎ বিহীন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫শে জুলাই ২০২২ রাত ১১:১১

remove_red_eye

৪৪৭





আকতারুল ইসলাম আকাশ :  ভোলা সদর উপজেলার মাঝের চর ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে দুই মাস (জুন-জুলাই) ধরে বিদ্যুৎ নেই। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চরে বসবাস করা মানুষ। দীর্ঘদিন যাবত এমন অবস্থা থাকায় চরম দুভোর্গে পড়েছেন চরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা। বিদ্যুৎ না থাকায় রাত হলেই চরম উৎকন্ঠা আর ভয়ে থাকেন চরের বাসিন্দারা।
মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে নেওয়া সাবমেরিন ক্যাবলে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারনে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। কবে নাগাদ এ সমস্যা সমাধান হবে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ কোটি টাকা খরচ করে মেঘনা নদীর তলদেশে সাবমেরিন কেবল টেনে গত বছরের নভেম্বর মাসে সদর উপজেলার পরানগঞ্জ সাবস্টেশন থেকে মাঝের চর ও তাঁর পাশে থাকা মদনপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সঞ্চালনার লাইন টানা হয়। প্রথমে চরের সাড়ে সাতশো গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
সংযোগ দেওয়ার ৫ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ চললেও হঠাৎ করে ৩ জুন সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এরপর সাবস্টেশন থেকে শুরু করে লাইনের বিভিন্ন জায়গায় ত্রুটি খোঁজা হয়। কোথাও ত্রুটি খোঁজে না পেয়ে প্রকৌশলীরা মনে করছেন নদীর তলদেশ দিয়ে নেওয়া সাবমেরিন কেবলে যেকোনো ত্রুটি থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
মদনপুর চরের বাসিন্দা আনোয়ার আব্বাস, শাহনাজ পারভীন, ফাতেমা বেগম, রফিকুল ইসলামসহ অনেক বাসিন্দা জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ৪-৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়৷ প্রথমে তাঁরা (চরের বাসিন্দারা) মনে করেছিলেন এটা লোডশেডিং অথবা কালবৈশাখী ঝড়ের কারনে এ অবস্থা হতে পারে। কিন্তু টানা দুই মাস বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকায় তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সাবমেরিন কেবলে ত্রুটি থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। যাঁর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা।
মদনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন মাষ্টার জানান, এতো কোটি টাকা খরচ করে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে চরে বিদ্যুৎ যাওয়ায় চরের মানুষ খুব খুশি হয়েছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগের কয়েকমাস পরেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় চরের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নান্নু মিয়া জানান, তিনি এ বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি একাধিকবার সমিতির লোকজনকে অনুরোধ করেছেন। যাতে করে খুব দ্রæত সময়ে এর সমাধান করা হয়।
ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইয়েদ জানান, তাঁরা ধারণা করছেন নদীর তলদেশ দিয়ে নেওয়া সাবমেরিন কেবলে যেকোনো ত্রুটি হয়েছে। যাঁর ফলে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, দেশের সেরা একটি ডুবুরি দল ভোলায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছিল নদীর তলদেশ থেকে সাবমেরিন কেবল উত্তোলন করতে। মেঘনা নদীর গভীরতা ১২০-১৩০ ফুট। ডুবুরি দল নদীর পরিস্থিতি দেখে এ পরিস্থিতিতে সাবমেরিন কেবল উত্তোলন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। মেঘনা নদী খরস্রোত হওয়ায় শীত মৌসুমে নদী শান্ত থাকা অবস্থায় সাবমেরিন কেবল উত্তোলন করা যেতে পারে।
ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা সভাও করেছে। খুব দ্রæতই তাঁরা এ সমস্যার সমাধান করবে। এতে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে।