অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২২শে মে ২০২৬ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় সরিষা আবাদ করে লাভের স্বপ্ন দেখছে কৃষকরা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ঠা মার্চ ২০২৩ রাত ০৯:৪৪

remove_red_eye

৩৯৭

হাসিব রহমান : মো: তাজুল ইসলাম। কৃষি কাজ করেই চলে তার সংসার। তিনি এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তার দিগন্তজুরা সরিষা ক্ষেতে সরিষা দানার থোরা বাতাসে দুলছে। আর কিছুদিন পরই  ক্ষেতের আবাদকৃত সরিষা ঘরে তুলবেন তিনি। কৃষি বিভাগ থেকে সরকারি ভাবে  ২ কেজি বীজ পেয়েছেন এবং তিনি আরো ২ কেজি কিনে  এ বছর দের একর জমিতে অগ্রাহায়ণ মাসে সরিষা আবাদ করেছেন। এতে তার প্রায় ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তার আশা বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।  বুধবার দুপুরে এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন, ভোলা সদর উপজেলার হাজির হাট বুড়ি মসজিদ সংলগ্ন এলাকার কৃষক  মো: তাজুল ইসলাম।
তিনি আরো বলেন, গত বছর সরিষা আবাদ করে খুব অল্প সময়ে তার ৩৫ হাজার টাকা লাভবান হয়েছিল। তাই এবছর আবারও সরিষার আবাদ করেছেন। আগামী বছর তিনি আশা করছেন ২ একর জমিতে আবাদ করবেন।  তার মতো এলাকার আবদুল খালেক সহ বহু কৃষক সরিষার আবাদ করেছেন। কাঁচা সরিষা ফুলের মন জুড়ানো দৃশ্যে যেমন হাসি ফুটেছিলো কৃষকের মুখে। তেমনি ভালো ফলন আসায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এখন সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।
 কৃষি বিভাগের মতে,  ভোলা জেলার ৭ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। সয়াবিন তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশিয় সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ বছর  জেলায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করতে ১০ হাজার ২’শ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান,  গত মৌসুমে ভোলা জেলায় ৫ হাজার ৮ শত হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়। আর উৎপাদন হয়েছিলো ৮ হাজার ১২০ মেট্রিকটন। লাভজনক ফসল হওয়ায় এ বছর প্রায় ২৮ হাজার কৃষক সরিষা আবাদ করেছে। এ বছর সরিষা আবাদের লক্ষমাত্র ৫ হাজার ৮শত হেক্টর হলে আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৬৭ হেক্টর জমিতে।  কৃষকরা জানায়,  ভোলা জেলায় সাধারণত বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৬, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-৪ জাতের আবাদ বেশি করা হয়। আমন ও বোরো ধানের মাঝামাঝি সময়ে চাষ হওয়া সরিষা জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। সরিষার পাতা থেকে সৃষ্ট জৈব সার ধানের পুষ্টি জোগান দেয়। বীজ রোপনের পর থেকে সর্বোচ্চ ৮০-৯০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রথম দিকে আগাছা পরিস্কারের কাজ ছাড়া তেমন পরিশ্রমও হয়না সরিষা চাষে। তাই স্বল্প সময়ে চাষ সম্ভব বলে অনেক চাষিই সরিষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
 ভোলার পূর্ব ইলিশার গুপ্ত মুন্সি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পারভেজ মিজি তার সরিষা ক্ষেতে শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি জানান, তিনি গত ৮/১০ বছর ধরে তিনি সরিষা আবাদ করে আসছেন। তিনি এবছর ৬ গন্ডা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন।  ৫ মন  সরিষা হয়েছে। তিনি ১৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তার ১০/১২ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। তবে এবল বীজ খারাপের কারনে ফলন তেমন ভালো হয়নি। তিনি সরকারি কোন প্রনোদনা পাননি। তিনি লোকসানের আশংকা করছেন।
কৃষকরা আরো জানান, সরিষা চাষে বিঘা প্রতি ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। আর প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার ফলন আসে ৬-৭ মন। যার বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে কৃষকের বিঘাপ্রতি ৯ থেকে ১১ হাজার টাকা লাভ হয়। কৃষকরা জানান, যে জমিতে সরিষার আবাদ হয়, সেখানে ধান ভালো হয়। এছাড়া সরিষার গাছ শুকালে জ¦ালানি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। তাই এটি একটি লাভজনক ফসল।
কৃষি বিভাগ জানান, উৎপাদিত সরিষা ভোলার বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: হাসান ওয়ারিসুল কবীর জানান, ভোলায় সরিষা আবাদের ভবিষ্যৎ খুবই ভালো। আগামীতে সরিষা আবাদের পরিমান আরো বাড়বে। বিশেষ করে আগামতে সরিষার নতুন জাত বারী-২০ আবাদের সম্ভবনা রয়েছে। কৃষকরা বাজার দর ভালো পাচ্ছেন।  আমরা তাদের কে প্রশিক্ষন দিচ্ছি। প্রনোদনা বীজ দিয়েছি। প্রদর্শনীর বীজ দিয়েছি। এসএমইর বীজ দিয়েছি। এমনকি সারসহ কারিগরি সহযোগীতা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।