অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৯শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় ইলিশা-১ নামে আরো একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮শে এপ্রিল ২০২৩ সন্ধ্যা ০৬:১৫

remove_red_eye

৩৬৩

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক: দ্বীপজেলা ভোলায় একের পর এক জ্বালারি গ্যাস কূপের সন্ধ্যান পাওয়া যাচ্ছে।   ভোলার ইলিশা-১ নামে নতুন আরো একটি কুপ থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করেছে বাপেক্স। এ নিয়ে জেলার মোট ৯টি কূপে গ্যাসের সন্ধান পেল বাপেক্স। আজ শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৭ টা থেকে আগ্নি পজ্জলনের মাধ্যমে এ গ্যাস উত্তোলন শুরু করে বাপেক্স। প্রতিদিন এই গ্যাস কুপ থেকে ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে আশা করা করছে সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি গ্যাসের চড়া দাম ও সংকটের মধ্যে  একের পর এক গ্যাস কূপ পাওয়ায় এখন আশার আলো দ্বীপজেলা ভোলা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি সংকট দূর করার লক্ষে দেশিয় গ্যাসের উৎপাদনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার । গত ৮ মার্চ ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে মালেরহাট সংলগ্ন এলাকায় ইলিশা-১ কুপ এ বাপেক্স খনন শুরু করে । বাপেক্সের নকশা ও লোকেশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার গ্যাসপ্রম কূপ খনন কাজ পরিচালনা করছে। ৩ হাজার ৪৩৬ মিটার গভীরতায় তিনটি স্তরে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম স্টেট) এর মাধ্যমে সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয় ২৪ এপ্রিল। এরপর শুক্রবার সকাল ৭ টা থেকে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি তারা নিশ্চিত করা হয়। গ্যাসের প্রবাহ ও প্রেসার পজেটিভ।
বাপেক্সের ভূ-তাত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে দৈনিক এই কূপে ২০ থেক ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এটা একটা স্তরে। আরো ২টা স্থরে পরীক্ষা করা হবে। সব গুলো স্তরের পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই বলা যাবে প্রতিদিন কত মিলিয়ন প্রডাকশন করা যাবে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে  ১৮০ থেকে ২২০ বিসিএফ ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে সময় লাগবে আরও বেশ কিছুদিন।  সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্তেলন করবেন বলে জানিয়েছেন বাপেক্স ।
সংশিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, ভোলায় ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্রে এর আগে ১৯৯৩-৯৪ সালে  ভোলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কারের পর একে একে সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায়  শাহবাজপুর ও ভোলা নর্থ নামের আলাদা দুটি গ্যাসক্ষেত্রে ৮ টি কূপ খনন করা হয়। এসব কূপে মোট গ্যাস মজুদের পরিমান ১. ৭ টিসিএফ ঘনফুট বলে জানা গেছে। গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাই করতে আগামী অক্টোবর থেকে নতুন করে তেল গ্যাস অনুসন্ধান করবে বাপেক্সের ভূ-তাত্তি¡ক বিভাগ।
 জানা যায়, বর্তমানে কেবল ৪টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। প্রতিদিন ১৪০ এমএমসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা গেলেও এর সম্পূর্ন ব্যবহার হচ্ছে না। বর্তমানে ৪টি বিদ্যুৎ প্লান্টসহ ক্ষুদ্র কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। এতে মাত্র ৮০ এমএমসিএফ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে দৈনিক ৪৮৫ মেগাওয়াট।
 এদিকে গ্যাসের মজুদ থাকলেও আবাসিক সংযোগের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আবাসিক সংযোগের জন্য প্রায় দুই হাজার আবেদন ঝুলে আছে । নতুন  গ্যাস সংযোগের জন্য চলতি বছরে বেশ কয়েক বার মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘ঘরে ঘরে গ্যাস চাই’ আন্দোলন কমিটি। অন্যদিকে ভোলায় গ্যাসের মজুদ থাকায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান শিল্পায়নের কাজ শুরু করেছেন। অনেকে জমি অধিগ্রহণ করেছেন।  গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার এই খবরে আনন্দিত ভোলাবাসি।