বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১শে মে ২০২৩ সকাল ০৬:১৮
৩৩৪
মলয় দে : বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ করার দাবিতে ভোলায় র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ৩০শে মে সকাল ১১টায় ভোলা যুব ফোরাম, মা-সংসদ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠি, এবং সুশীল সমাজের আয়োজনে এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্যা রুরাল পূওর-ডর্প এর সহযোগিতায় বর্ণাঢ্য এই র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।শতাধিক মানুষের অংশগ্রহনে র্যালিটি ভোলা প্রেসক্লাব চত্তর থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ভোলা প্রেসক্লাব চত্তরে এসে শেষ হয়। র্যালীর শুরুতে ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক ও দ্বীপবাণী পত্রিকার সম্পাদক মো: আবু তাহের, শেখ ফজিলাতুন্নেছা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমীন জাহাঙ্গীর, ভোলা প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ভোলা প্রতিনিধি অমিতাভ রায় অপু, ডর্প প্রতিনিধি, যুব ফোরাম এবং মা-সংসদ'র সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এসময় ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক ও দ্বীপবাণী পত্রিকার সম্পাদক মো: আবু তাহের বলেন,তামাক কোম্পানি সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে থাকে। খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটিতে তামাক কোম্পানির ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা’ বা সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই এটি দ্রæত পাশ করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন,যদি আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই আইনটি পাশ করা যায় তাহলে তামাক কোম্পানিগুলোর অপতৎপরতা বন্ধ হবে। জনস্বাস্থ্যেরও প্রভূত উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমীন জাহাঙ্গীর বলেন, এখনই যদি তামাকের কুপ্রভাব এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সরকার সচেতন হয় তাহলে অনেক প্রাণ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণসমাজ রক্ষা পাবে। বাংলাদেশের অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১৩-১৫ বছরের মধ্যে) মধ্যে প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ কোন না কোন ধরনের তামাক ব্যবহার করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী) মধ্যে ৪৪ শতাংশ মানুষ তামাক কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ধূমপান ও তামাক গ্রহণে আগ্রহী হয়। এটি পরবর্তীতে অন্যান্য নেশায় আসক্ত করে। আইনটির কঠোর প্রয়োগ অল্পবয়সে তামাকজাত পণ্য সেবন নিরুৎসাহিত করবে বলে আমি মনে করি। ভোলা প্রেসক্লাব সম্পাদক অমিতাভ রায় অপু বলেন, তামাকজনিত নানা রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের জন্য চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেছে। আমাদের দাবি হল যত দ্রæত সম্ভব এটি মন্ত্রীপরিষদে অনুমোদন করিয়ে সংসদে উত্থাপন ও পাশ করা হোক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ও সংশোধিত খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অন্যতম ৬ টি ধারা হলো- সকল প্রকার উন্মুক্ত স্থান এবং গণপরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক দ্রব্যের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট আমদানি, উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাক পণ্যের সকল প্রকার খুচরা শলাকা বিক্রয় বন্ধ করা এবং বিড়ি ও সিগারেটের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র গেøাবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় পৌঁনে চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। তামাকের এই বহুল ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০১৮ অনুসারে, তামাকজনিত নানা রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। এ ছাড়াও লাখ লাখ মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্যের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এফসিটিসি’র আলোকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ প্রণয়ন করে। ২০১৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। ২০২২ সালে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি বিশ্বমানে উন্নীত করতে সংশোধনী প্রস্তাব প্রণয়ন করে। ১৬ জুন ২০২২ তারিখে সংশোধনী প্রস্তাব জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এবং সংশোধনীর পক্ষে ১৬০০০ জনেরও অধিক ইতিবাচক মতামত প্রদান করেন। মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ১৬৯ জন সাংসদ। ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে চূড়ান্ত সংশোধনীটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য মন্ত্রীপরিষদে প্রেরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সুশীল সমাজ ও অন্যান্য ব্যক্তি বর্গ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্যা রুরাল পূওর-ডর্প'র এমন জন সচেতনতামূলক কাজের প্রশংসা করে বলেন,ডর্প বিগত ১৯৮৭ সাল থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচীর সাথে জড়িত এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রবর্তনকারী সংস্থা হিসাবে সমধিক পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় ডর্প বর্তমানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও তামাক কর বৃদ্ধি বিষয়ে কাজ করছে এবং সরকারের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। র্যালীতে ভোলা যুব ফোরাম, মা-সংসদ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠি, সুশীল সমাজ,সাংবাদিকবৃন্দ এবং সাধারন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে র্যালিটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
লালমোহনে দুদক এর উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ভোলার ‘৭০ ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে “অস্তিত্বের লড়াই”
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশের মানুষ কখনো জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল
১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা করার প্রস্তাব
ইসির কাছে প্রার্থীদের আর্থিক তথ্য চাইল সুজন
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতায় টাইগারদের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির
ভোলায় নানা আয়োজনে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক