অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৯শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলার সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাইকমান্ড সিদ্দিক আর নেই


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ই জুন ২০২৩ রাত ১০:০৫

remove_red_eye

৬১৬

বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক: ভোলার  সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভোলা জেলার কামান্ডার মো. সিদ্দিকুর রহমান ওরফে হাই কমান্ড সিদ্দিক  শুক্রবার(৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় তাঁর ছোট ছেলের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)।
তাঁর ছেলে তরিকুল ইসলাম সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মৃতুকালে তাঁর বয়স হয়ে ছিল ৭৯ বছর। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মো. সিদ্দিকুর রহমান ১৯৪৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের বড়পাতা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সিদ্দিকুর রহমান তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ভোলা পাকিস্থানি হানাদার মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে ৬ মে ভোলার খেয়াঘাট দিয়ে এসে পাক বাহীনি ওয়াপদাকে মূল ক্যাম্প করে। পরবর্তীতে ওই স্থান থেকে ভোলা সদর সহ অন্যান্য থানা গুলোতে পাক বাহীনি ক্যাম্প স্থাপন করে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত বোরহানউদ্দিনের সস্তান সিদ্দিকুর রহমান সেনাবাহীনি থেকে পালিয়ে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশালে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। ভোলার  অবস্থা বেগতিক দেখে ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল তাকে ভোলায় যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠান। ভোলা মুক্তকরনে বোরহানউদ্দিনে ২২ অক্টোবর দেউলার যুদ্ধ এবং ২৭ অক্টোবর টনির হাট(ঘুইংঘার হাটের) যুদ্ধ সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত। দেউলার যুদ্ধে হাই কমান্ড ছিদ্দিকের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী দখদার মুক্ত করে এবং ওই যুদ্ধে ৪ ৪ পাক হানাদার নিহত হয় এবং অনেককে বন্ধি করা হয়। টনির হাটে কমান্ডার সিদ্দিক ও তাঁর বাহিনী সবাই কে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ যুদ্ধে হানাদারদের পরাজিত করেন। ওই স্থানে ৫ পাক-হানাদার নিহত হয়। ওই দুই যুদ্ধে ৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ১০ ডিসেম্বর ভোলাবাসী মুক্তির আনন্দ মিছিলে শামিল হয়।
মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি মানুষের কাছে বাঘা সিদ্দিক ও হাই কমান্ড সিদ্দিক নামে পরিচিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর সিদ্দিকুর রহমান ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-৪ (বর্তমান ভোলা-২) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ভোলা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তাঁর মৃত্যুতে ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার দোস্ত মাহামুদ, ডেপুটি কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা কমান্ডার অহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম,ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দৈনিক বাংলার কণ্ঠের সম্পাদক এম হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ অপুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, সংগঠনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেন।
 শনিবার সকাল ৯ টায় ভোলার বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে প্রথম জানাজা ও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর গ্রামের বাড়ি বোরহানউদ্দিনের দেউলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।