অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৯শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের সংকট


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪শে জুলাই ২০২৩ রাত ১০:২২

remove_red_eye

৪১৫

হাসিব রহমান: ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে বর্ষা মৌসুমেও জেলেদের জালে দেখা মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ । এতে করে চরম হতাশা নিয়ে নদী থেকে ফিরছে জেলেরা। যার ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে দিন কাটাচ্ছে তারা।  তার উপর ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে দিশেহারা ।  তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, আগামী মাসের মধ্যে ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে আসবে এবং কাঙ্খিত ইলিশ মিলবে।  
স্থানীয়রা জানান, উপক‚লীয় দ্বীপজেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর রূপালী সুস্বাধু ইলিশ মাছের খ্যাতি অনেক পুরনো। কিন্তু এ বছর আষাঢ় শেষ হয়ে শ্রাবন শুরু হলেও নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের দেখা নেই। প্রতিদিন মেঘনা তেঁতুলিয়া বুকে হাজার হাজার জেলে জাল ফেলে কাঙ্খীত ইলিশ ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে তীরে। গুটি কয়েক যে মাছ ধরা পড়ছে তা দিয়ে ট্রলারে ইঞ্জিনের জ্বালানী তেলের দামসহ অন্যন্য খরচও ঠিক মতো ওঠে না।  তাই জেলেদের চোখে মুখে এখন দুশ্চিন্তা আর হতাশার ছাপ। নদীতে মাছ না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে জেলেরা চরম বিপাকে রয়েছে। কি ভাবে তারা ঋণের টাকা শোধ করবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে ভোলার  ২ লাখেরও বেশি জেলে । জেলেরা জানান, ধার দেনা করে ইলিশ মাছ পাওয়ার আশায় তারা নদীতে গলেও তাদের খরচের টাকা উঠছে না। তাই প্রতি দিনই তাদের এনজিও ও মহাজনের ঋণের বোঝা বাড়ছে।
ভোলার তুলাতুলি মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মাছের বাক্সগুলো খাঁ খাঁ করছে। জেলে ইউনুস মাঝি জানান, ৪ হাজার টাকা খরচ করে নদী যে মাছ ধরতে গিয়েছিলো। কিন্তু মাছ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯ শত টাকার।  ইয়াসিন মাঝি জানান, ৮ জন জেলে নিয়ে যে পরিমান মাছ পেয়েছে তা দিয়ে খরচের টাকাই ওঠেনি। কি ভাবে তাদের সংসার চলবে তা নিয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন। নদীতে মাছের সংকট হওয়ায় অনেক জেলে নদীতে না গিয়ে ঘাটেই তাদের নৌকা ট্রলার বেঁধে রেখেছে।

ভোলার মেঘনা নদীর ইলিশা, নাছির মাঝি,ভোলার খালসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ছোট বড় ঘাটে একই অবস্থা । দু’এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে আনা হলেও আগের মতো নেই হাকডাক। জেলেদের পাশপাশি আড়ৎদাররাও রয়েছে বিপাকে। জেলে পরিবার গুলোর মধ্যে এখন হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। তুলাতুলি মৎস্য আড়ৎদার মঞ্জু জানান, গত বছর এই সময় যে পরিমাণ ইলিশ তারা রপ্তানি করেছেন এবছর তার অর্ধেক ইলিশও নেই। এতে করে শুধু জেলেরাই নয় মৎস্য আড়ৎদারগনও বহু টাকা দাদন দিয়ে এখন লোকসানের মুখের পড়েছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ  জানান, এখনো ইলিশের পেটে পর্যাপ্ত ডিম আসেনি। এর জন্য সমুদ্র থেকে নদীতে আসছে না। যখনই পেটে ডিম আসবে তখন ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে আসবে এবং কাঙ্খিত ইলিশ মিলবে। আশা করা হচ্ছে আসামী মাসের মধ্যে ইলিশ নদীতে আসবে। তখন আশানুরুপ ইলিশ পাওয়া যাবে। কাঙ্খিত লক্ষমাত্রাও অর্জন হবে বলে আশা করন তিনি। তিনি আরো জানান, গত বছর ভোলায় ইলিশ আহরণ হয়ে ছিলো ১ লক্ষ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন। আর এ বছর ইলিশ আহরনের লক্ষমাত্রা ১ লক্ষ ৯২ হাজার মেট্রিক টন ।