অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৯শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় অতি জোয়ারের পানিতে নিন্মাঞ্চলসহ ১৪ গ্রাম প্লাবিত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২রা আগস্ট ২০২৩ রাত ১১:০৭

remove_red_eye

৪৯৯

বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : ভেলায় নিন্মচাপ ও পূর্ণিমাজোর প্রভাবে অতি জোয়ারের ৩/৪ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে ভোলা সদর উপজেলার বাঁধের বাইরের ১০ টি ও মনপুরা উপজেলার ৪ টি গ্রাম। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত জোয়ারে প্লাবিত ১২ হাজার মানুষ। অস্বাভাবিকহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন উপকূলের মানুষ। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, মনিটরিং শেষ এসব গ্রামকে বাঁধের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা জানান, ভোর রাতে ও বিকালে ২ বেলা অতি জোয়ারে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৯ টি ওযাডের ১০ টি গ্রাম বুধবার বিকালে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে রামদাস পুর, রূপপুর, দক্ষিণ রাজাপুর,কন্দক পুর,পূব কন্দক পুর, আনন্দ বাজার,ডায়া ক্লোজার,চর আনন্দ পাট ৩ , দক্ষিণ কন্দক পুর গ্রামের প্রায় ১০ হাজার লোক ২ বেলা ৩/৪ ঘন্টা করে পানিবন্দী হয়ে পরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।নিম্নচাপ এবং পূর্নিমার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপদ সীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় বুধবার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ওই সব এলাকায় বেড়ি বাঁধ না থাকায় পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়ে দুর্ভোগ আর অসহায় জীবন যাপন করতে হয় তাদের। তবে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড -১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মু. হাসানুজ্জামান জানান ,খুব দ্রুত এসব এলাকাকে বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধের আওতায় আনা হবে। অপর দিকে ভোলার মনপুরায় নিন্মচাপের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে নিন্মাঞ্চলসহ চারগ্রামের বেড়ীর বাহিরে ৩-৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই সমস্ত এলাকার দুই হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এছাড়াও জোয়ারে পানিতে মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন বেড়ীবাঁধহীন চরকলাতলী ও চরনিজামে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই সমস্ত চরাঞ্চলে ৩-৪ ফুট জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ও আমিন। এদিকে বুধবার দুপুর ২ টায় মেঘনার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ। বুধবার দুপুর ১২ থেকে একটানা ২ টা পর্যন্ত জোয়ারে প্লাবিত হয় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চার গ্রামের বেড়ীর বাহিরের নিন্মাঞ্চলসহ বিচ্ছিন্ন বেড়ীবাঁধহীন চরাঞ্চল। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরজ্ঞান, চরযতিন ও সোনারচর গ্রামের বেড়ীর বাহিরে ৩-৪ ফুট জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও জোয়ারের ওই সমস্ত এলাকার বেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জোয়ারের বেড়ীর বাহিরে বসবাসরত আনুমানিক ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও দাসেরহাট এলাকার বেড়ী সংলগ্ন দাসেরহাট জামে মসজিদ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে দেখা গেছে। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দা বাছেদ, শমিরন, কালির টেকের কালি সহ অনেকে জানান, জোয়ারের পানি ঘরের মধ্যে পবেশ করেছে। তাই তারা ঘর ছেড়ে বেড়ীর ওপর আশ্রয় নিয়েছে। পানি সরে গেলে ঘর যাবে। আজ অনাহারে থাকতে হবে। তারা সরকারের কাছে ত্রানের দাবী করেন। এই ব্যাপারে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, জোয়ারের পানিতে বেড়ীর বাহিরে প্লাবিত চার গ্রাম প্লাবিত হয়। দুই হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, মেঘনার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হয়ে বেড়ীর বাহিরে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও জোয়ারের পানিতে বেড়ীবাঁধ রক্ষায় ইর্মারজেন্সি কাজ হাত নেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নওরীন হক জানান, জোয়ার প্লাবিত হওয়ার খবরটি উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত দুর্গত এলাকার মানুষদের সহযোগিতা করা হবে।