অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৮শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় ভারী বর্ষণে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই আগস্ট ২০২৩ রাত ১০:০১

remove_red_eye

৩৯০



ভোলা-লক্ষ্মীর রুটে  লঞ্চ চলাচল বন্ধ

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারী বর্ষণে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে অনেকের পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এছাড়াও বৃষ্টি পানি জমে আউস ধানের খেত তলিয়ে গেছে। অপরদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় সোমবার (০৭ আগস্ট) সকাল থেকে ভোলা-লক্ষীপুর নৌ-রুট ও চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে সকল ধরণের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও টানা বৃষ্টির কারনে শহরের কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। মেঘনা-তেঁতুলিয়ার পানির বিপদ সীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর কলাতলী, কাজীরচর, ঢালচরেসহ হাজিরহাটের দাসেরহাট, চরযতিন, চরজ্ঞান, চরফৈজুদ্দিন, সোনারচর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ও কুকরী-মুকরী, মুজিবনগর ইউনিয়নের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাঁধের বাইরের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসকল এলাকার কয়েক হাজার মানুষ গত কয়েকদিন ধরে পানিবন্ধী রয়েছে।
মনপুরার কলাতলী চরের ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান জানান, কলাতলির চর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই চরের বেশীরভাগ পুকুর ও ঘেরের মাছ চলে গেছে। দৈনিক দুই বার জোয়ারের পানিতে পানিবন্ধী থাকেন সেখানকার বাসিন্দারা। এতে করে অনেকের ঘরের চুলাও জ¦লছে না। তারা অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আমির হোসেন জানান, তাদের এলাকার বেড়ীবাঁধের বাইরে প্রায় পাঁচ হাজার লোকের বসবাস। জোয়ার এলেই এ সকল মানুষের ঘরে পানি ওঠে। ঘরে রান্না করার চুলাও পানিতে ডুবে যায়। এতে করে চরম ভোগান্তীতে রয়েছেন তারা।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত তিন দিন ধরেই ভোলায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রবিবার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ভোলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১০৮ মিলিমিটার। সামনে আরো দুই এক দিন এরকম ভারী বর্ষণ থাকবে। সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারনে ভোলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ) ভোলা বন্দরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় ভোলা-ল²ীপুর নৌ-রুট ও চরফ্যাশনের বেতুয়া থেকে সকল ধরণের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.হাসানুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপদ সীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এটি সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ কিছুটা কমে আসবে। বাঁধের বাইরে বসবাস করা লোকজন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোথাও বেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।