অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিশেষ সমন্বয় সভা


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ৬ই এপ্রিল ২০২০ ভোর ০৪:৩৪

remove_red_eye

৮৯২

অচিন্ত্য মজুমদার:: ভোলায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সেবা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পরবর্তী দাফন কার্যক্রম ব্যবস্থা বিষয়ে বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
সভায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক। এসময় তিনি বলেন, সবার ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনে কাউকে ঘরের বাইরে আসতে দেয়া হবেনা। এছাড়া রাস্তায় অটোরিক্সা, ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র রিকসা চলার কথা বলেন তিনি। রিকসায়গুলোতে একজন যাত্রী বেশি বহন করলে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও তিনি বলেন। এসময় পৌর এলাকায় সব ধরনের অপ্রত্যাশিত যান চলাচর বন্ধের বিষয়ে পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের সহযোগীতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক। সভায় যে কোন ধরনের গুজব রোধে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালনের আহবান জানান তিনি। 

সভায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ভোলার নব নির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি সাহপাতাল গুলোতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আতাহার মিয়া জানান, সরকারের আইন অনুযায়ী দেশে যে কোন দূর্যোগকালীন স্থানীয় প্রশাসন চাইলে বেসরকারী স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালিত হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসাকেন্দ্র ব্যবহার এবং সেখানকার চাকরীরত ডাক্তার, নার্সসহ  অন্যান্যদের স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে বাধ্য থাকবে। এছাড়া চলতি পরিস্থিতিতে যেসকল বেসরকারী চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ বিরোদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক।

অন্যদিকে রোগীদের সাথে আসা স্বজনদের হাসপাতালগুলোতে প্রবেশ না করতে দেয়ার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী। করোনা আইসোলেশন ইউনিট থেকে রোগী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখ জনক বলে উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, এধরনের ঘটনা যে আর না ঘটে সেজন্য আইসোলেশন নিউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোলা সদর হাসপাতালে কোন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ না থাকার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা দূর্যোগ কালীন সময়ে এটি অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এবিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান সিভিল সার্জন।

সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক মো: মাসুদ আলম ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেয় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সিভিল সার্জেন ডা. রতন কুমার ঢালী, ভোলা পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে নৌবাহিনী কমান্ডার, ডিডি এনএসআই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক, তথ্যাবধায়ক ভোলা সদর হাসপাতালসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।