অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা কারাগারে


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ই জুলাই ২০২৪ রাত ১২:০৭

remove_red_eye

২৯৯

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (আইটি) আতাউর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আতাউর রহমান। কিন্তু বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইয়ারব হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে আদালতের নির্দেশে তাকে বরিশালে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় পুলিশ। বাদী পক্ষের উকিল বরিশাল জজ কোর্টের আইনজীবী আবদুল খালেক মনা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে এ মামলা দায়ের করা হয়।
 মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৪ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে মামলা দায়েরর পর ঘটনা স্থলবরিশালের আগৈলড়া থানা পুলিশকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল এর নির্দেশ প্রদান করনে আদালত। আগৈলঝড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গত ৭ এপ্রিল ২০২৪ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
নির্যাতনের শিকার ইশরাত জাহান কেয়া  জানান, বিগত ১৬ জুন ২০২১ তারিখে তাদের বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে তার পিতা নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাব পত্র সহ দুই লক্ষ টাকার মালামাল প্রদান করেন। বিবাহের পর তিনি তার স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করতেন। তার স্বামী বিভিন্ন সময় তাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য দিতে বলতেন। গত ৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে আমার স্বামী আমাকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বাবার বাড়ি থেকে ৩ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য বলেন।
 কিন্তুু আমার বাবার পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। এতে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে প্রচন্ড মাধরধর করে। আমার ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আগৈলঝড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর থেকে আমি আমার বাবার বাড়িতে রয়েছি।
আমরা আদালতে মামলা করার খবর শোনার পরে আমার বাবা মোঃ চুন্নু হাওলাদারকে ফোনে মামলা তুলে নেয়ার জন্য  ও নানাভাবে  হুমকি দেন। এইজন্য আমার বাবা বাদী হয়ে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ গৌরনদী থানায় জিডি করেছেন। জিডি নাম্বার:১২২৭। এর পর থেকে সে আমার ও ১১ মাসের পুত্র সন্তান আব্দুল্লাহ  ও আমার কোন খোঁজ-খবর নেয়নি আমার স্বামী।
এছাড়া আসামি আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অফিসের জুনিয়র মেয়ে কলিগকে যৌন হয়রানির জন্য পল্লী বিদুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম কে একাধিবার ফোন দিয়ে ফোনে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য আতাউর রহমান বরিশাল জেলার আগৈলঝড়া উপজেলার বাহাদুর গ্রামের আব্দুল সোবহানের ছেলে।