অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বিমান বিধ্বস্ত: দগ্ধ মাসুমার লাশ ভোলায় পাঠানো হবে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬শে জুলাই ২০২৫ সন্ধ্যা ০৬:১৩

remove_red_eye

১৬৭

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৫ দিন পর মারা গেলেন ভোলার মেয়ে মাসুমা বেগম (৩৮)। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের ছাড়পত্র পাওয়ার পর লাশ নিয়ে যাওয়া হবে ভোলায় এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, দুর্ঘটনার দিন মাসুমা আগুনে দগ্ধ হন। এসময় তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি দেখে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মেনে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শুধু ছবিটি তার স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেল।

মাসুমা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সেলিম রুন্দির স্ত্রী। তারা ঢাকার তুরাগ থানার শুক্রভাঙ্গা এলাকার নয়ানগরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মাসুমা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী ও তার স্বামী বায়িং হাউজে কাজ করতেন।

মাসুমার স্বামী সেলিম বলেন, ঘটনার দিন মাসুমা স্কুলে কর্মরত ছিলেন। পরে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি আমার স্ত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমার ছোট ছোট দু'টি সন্তান রয়েছে, যাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি শোকে স্তব্ধ হয়ে যাই। আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম বাচ্চাদের জন্য হলেও যেন আল্লাহ আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সে আমাকে রেখে চলে গেলেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের ছাড়পত্র পেলে আমরা লাশ নিয়ে ভোলার উদ্দেশে রওয়ানা করব। পরিবারের সাথে আলোচনা করে জানাজা নামাজ শেষে আমাদের নিজস্ব পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এদিকে, মাসুমার এমন মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আহাজারি করছেন তার গ্রামের বাড়ির স্বজনরা। কফিন বন্দী লাশের অপেক্ষায় তার স্বজনসহ এলাকাবাসী।