অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৯শে আগস্ট ২০২৬ | ১৪ই ভাদ্র ১৪৩৩


জলবায়ু পরিবর্তন ও চরাঞ্চলে চাষাবাদের কারণে কমছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০শে জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৩:০৯

remove_red_eye

৩৬৬

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব স্কোপ ফাউন্ডেশন ও বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের জরিপ

নেয়ামতউল্ল্যাহ : ভোলার আশপাশের চরাঞ্চলে শীতকালীন পরিযায়ী পাখি শুমারীতে এ বছর এক প্রজাতীর পাখি বেশি দখা গেছে। পাখির সংখ্যাও ছিল আশানুরূপ। তবে একই সঙ্গে বেড়েছে পাখির বিচরণক্ষেত্রে মানবসৃষ্ট হুমকী। আট দিনব্যাপী জরিপ শেষে পাখি শুমারী দল সোমবার সকালে ঢাকায় নেমেছে। রবিবার রাতে লঞ্চে উঠে এ সব তথ্য দেন শুমারী দলের প্রধান ড. সায়েম ইউ. চৌধুরী।  
পাখি বিশেষজ্ঞ সায়েম ইউ. জানান, ভোলায় আসা পাখি শুমারী দল এ বছর  ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আট দিনে ভোলার আসপাশে মেঘনা, তেঁতুলিয়া নদী ও সাগর মোহনার ৫৩টি চরে ৬৩ টি প্রজাতীর ৪৭ হাজার ১৫৭টি পাখি শুমারী করেছে। গত ৩৮ বছর ধরে চলছে পাখি শুমারী। এবারে একটি প্রজাতী বেশি দেখা গেছে, যা গত কয়েক বছর দেখা যায়নি। পাখিটির নাম টাফটেড ডাক, যার বাংলা নাম টিকি হাঁস। শুমারী দল এটা দেখেছে ঠ্যাঙ্গার চর। সংখ্যায় ছিল ২২০ টি। টিকি হাঁস মাঝারি আকারের ঝুটিয়াল হাঁস। প্রজননকালে পুরুষ হাঁসের পিঠ চকচকে কালো ও দেহতল সাদা দেখা যায়। মাথার চুড়ায় স্পষ্ট সাদা ফোঁটা।  মাথা ও ঘাড় ঘন কালো এবং বগল সাদা। মাথার পেছনে বড় ঝুলন্ত ঝুটি থাকে। লেজ, বুক ও অবসারণী কালো। ওড়ার সময় ডানার প্রশস্ত সাদা ছোপ ও অনিয়মিত প্রান্তদেশ চোখে পড়ে। কালো নখ ও আগাসহ ঠোঁট কালচে ফিকে; চোখ উজ্জ্বল হলুদ; কালো আঙুলের পর্দাসহ পা ও পায়ের পাতায় নীলচে- স্লেট রঙ।  
পাখি বিশেষজ্ঞ আরও বলেন,  টিকি হাঁস হাওর, বিল, নদী, জলাধার ও উন্মুক্ত জলাভূমিতে বড় ঝাঁকে বিচরণ করে। ডুব দিয়ে পানির নিচে গিয়ে জলজ লতাপাতা খাবার সংগ্রহ করে। মাঝে মাঝে এরা কর্কশ গলায় ডাকে।
জরিপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পাওয়া গেছে ইউরেশিয়ান উইজন (ইউরেশীয় সিঁথি হাঁস) ৬হাজার ১২টি। এরপর ব্ল্যাক-টেইল্ড গডউইট(কালো লেজ জৌরালি) দেখা গেছে ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার (বিপন্ন প্রজাতির দেশী গাঙচষা) ৩হাজার ৯৬২টি পাখি দেখা গেছে। দেখা গেছে- ‘চামচ ঠুঁটো বাটান’, ‘বড় নট’, ‘ফুলুরীহাঁস’।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখি দেখা গেছে মনপুরার কাছে চর আতুয়ার, ভাসানচরের কাছে জাইজ্জার চর এবং আন্ডার চর এলাকায়। এর মধ্যে চর আতুয়ার ৬হাজার ৪৭৯টি, জাইজ্জার চরে ৫হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪হাজার ৯৮৭টি পাখি গণনা করা হয়েছে। এই ফলাফলগুলো প্রমাণ করে যে, মেঘনা মোহনার কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় শীতকালীন পরিযায়ী জলচর পাখির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
সায়েম ইউ বলেন, তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালের শুমারীর চেয়ে এ বছর পাখি বেশি দেখা গেছে। ২৫ সালের জরিপে ৪৮টি চরে ৬২ প্রজাতীর ৪৬হাজার ১৫টি জলচর পাখি দেখা যায়। তার আগের  বছর (২০২৪) ৬২ প্রজাতীর ৩৪হাজার ৩১২টি পাখি দেখা যায়। ২০২৩ সালে পাখি গণনা হয় ৫৪হাজার ১৮০টি। ২০২২সালে পাখি গণনা হয় প্রায় ৩৩হাজার। এক সময় এ পাখির সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেত। চলতি বছরে পাখির সংখ্যা কিছুটা বেশি পাওয়ার পেছনে জরিপ এলাকার বিস্তৃতি বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক বার্ষিক ওঠানামা উভয়ই ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাখিশুমারী দল আরও জানায়, জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণে গত ৩৮বছরে মোটের ওপর ভোলায় আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে।
এ বছর জরিপটি পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল।
শুমারী দলের পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর চরাঞ্চলে, যেখানে পাখির বিচরণক্ষত্র, সেখানে তরমুজের আবাদ বেড়েছে।  এসব আবাদে কীট, বালাইনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার হচ্ছে, যা পাখির জন্য হুমকি।
ভোলার পশ্চিমের তেতুলিয়া নদী এবং পূর্বের মেঘনা নদীর চরে পরিযায়ী পাখি শিকারীদের কারণেও পাখিরা হুমকীর মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জলচর পাখি শুমারী দলের সদস্যরা। এখানে শিকারীরা প্রতিদিন বিষটোপ ও জাল পেতে পরিযায়ী পাখি শিকার করছে। বিগত বছরে পাখি শুমারী দল ওই জাল কেটে দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ শিকারী দলের রোশানলে পড়েছে।
জলচর পাখি শুমারী দলের সদস্য মো. ফয়সাল বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যে কমপক্ষে ১৫টি চরে পরিযায়ী পাখি দেখা গেছে। শীতে এসব পরিযায়ী পাখি হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ভোলার উপকূলে আসে খাবারের সন্ধানে। এখানেতারা  ডিমপাড়ে এবং বাচ্চা ফোটায়। শীত কমে গেলে যাওয়ার সময় বাচ্চা নিয়ে উড়ে যায়।
মো. ফয়সাল আরও বলেন, পাখির হাত থেকে কৃষকের উৎপাদিত ফসল রক্ষার জন্য কারেন্টজাল ব্যবহার হচ্ছে। এতে পাখিরা বেশ হুমকীর মুখে আছে।
পর্বতারোহী ও পাখি পর্যবেক্ষক এমএ মুহিত বলেন, জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণে জীববৈচিত্র হুমকীর মুখে। শিকারীরা বাড়তি উপদ্রব। সংঘবদ্ধ শিকারীদের রুখতে পারে স্থানীয়দের সচেতনতা। এক সময় ভোলার সকলের মধ্যে সচেতনতার কারণে ভোলায় শিকারী ছিল না বললেই চলে।গত কয়েক বছর আবার বেড়েছে।
দলের আরেক সদস্য পাখি বিশেষজ্ঞ নাজিম উদ্দিন খান বলেন, চরগুলোতে ব্যপক হারে আবাদ শুরু হয়েছে। বিগত সময়েও আবাদ হতো। কিন্তু তাঁরা কাঁদা চরগুলোতে ফসল করতো না। যেখানে পাখি খাবার খুঁটে খায়। এখন কাঁদা চরগুলো জ্যোৎদারেরা কৃষককে লগ্নি দিচ্ছে। কৃষক সেখানে ফসল করছে। এসব ফসলের খেতে আবার কারেন্টজাল পেতে ঘের দেওয়া হচ্ছে। এ জাল খেতের চারপাশে ও ওপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক পাখি নিধন হচ্ছে।
শুমারী দলের সঙ্গে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা বলেন, ভোলার আশাপাশের চরে ব্যপক পরিমান গবাদিপশু চরে বেড়াচ্ছে। তাদের সঙ্গে পাখীর কোনো বৈরিতা নেই। বরং বন্ধুত্ব আছে।  কিন্তু আবাদের কারণে গবাদী পশু ও পাখি বিচরণক্ষেত্র হারাচ্ছে। 


মোঃ ইয়ামিন



লালমোহন উপজেলা শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন

লালমোহন উপজেলা শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন

এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত: স্পিকার

এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত: স্পিকার

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ

সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের ভোট : সিইসি

সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের ভোট : সিইসি

এটি প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তব্য, হাসনাতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এটি প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তব্য, হাসনাতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালে ত্রাণ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালে ত্রাণ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে রাষ্ট্রপতির শোক

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে রাষ্ট্রপতির শোক

মক্কা চুক্তি বিশ্ব মুসলিম পরিবারের আত্মরক্ষার বিষয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মক্কা চুক্তি বিশ্ব মুসলিম পরিবারের আত্মরক্ষার বিষয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পাঠাবে বাংলাদেশ

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পাঠাবে বাংলাদেশ

আরও...