অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ | ১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩


এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে : প্রধান উপদেষ্টা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ০৯:৪১

remove_red_eye

১৮৮

দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত-এই নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের একদিন আগে আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।’

৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কিছু কথা বলব। কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা ঠিক করলো দেশকে সচল করার জন্য একটি সরকার লাগবে। সরকার গঠন ও চালানোর জন্য তারা আমাকে খবর দিলো। আমি তখন বিদেশে। আমি দায়িত্ব নিতে রাজি না। তারা জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের কথা বলে আমাকে রাজি করালো। ১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা।’

তিনি বলেন, ‘আমি আজ আমার কাজ থেকে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি।’

ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না-এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল।’

তিনি বলেন, ‘সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি এলো। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

নির্বাচনে জয়ী এবং যারা জয়ী হতে পারেননি-সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন, তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারা এই জেনে আশ্বস্ত হবেন যে, প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।’

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তি, আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদার দাবি উচ্চারণ করেছিল। সেই সময় দেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র হয়েছিল ধূলিসাৎ, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। ঠিক সেই সংকটময় সময়ে আমাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল- একটি লক্ষ্য সামনে রেখে। বাংলাদেশকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য তিনটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সংস্কার। বিচার এবং নির্বাচন।’

অধ্যাপক ইউনূস তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি ও আমার সহকর্মীরা-সবাই আমরা সেই অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করে গেছি। কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর থাকলো।’

উৎসবমুখর ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছি। আমরা ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়েছি-যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। আর সর্বোপরি, আমরা একটি উৎসবমুখর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।’

এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হলো- উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা; নতুন বাংলাদেশের জন্ম। এই অর্জনের পেছনে যাঁরা ছিলেন-জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা, সেই সাহসী মানুষগুলো, শহীদ ও আহতরা-তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাঁদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না।’

নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া সফল করতে দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই সহযোগিতা করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, নির্বাচন কমিশন, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সদস্যরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল। আপনাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে।’

 





ভোলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৫; লোডশেডিং ৮ মেগাওয়াট

ভোলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৫; লোডশেডিং ৮ মেগাওয়াট

ঢাকার কারখানায় কদর বাড়ছে ভোলার গ্যাসের

ঢাকার কারখানায় কদর বাড়ছে ভোলার গ্যাসের

ভোলার প্রথম সাংবাদিক আবু তাহেরকে সংবর্ধনা

ভোলার প্রথম সাংবাদিক আবু তাহেরকে সংবর্ধনা

চরফ্যাশনে ভারতীয় অবৈধ ট্রলিং বোট ও ১১ জাল জব্দ

চরফ্যাশনে ভারতীয় অবৈধ ট্রলিং বোট ও ১১ জাল জব্দ

চরফ্যাশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

চরফ্যাশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ইলিশায় মেসার্স এমএন ট্রেডিং এর উদ্বোধন

দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ইলিশায় মেসার্স এমএন ট্রেডিং এর উদ্বোধন

ভোলায় ডেঙ্গু বিস্তার রোধে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

ভোলায় ডেঙ্গু বিস্তার রোধে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

মনপুরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার করলেন যুবদলের নেতাকর্মী

মনপুরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার করলেন যুবদলের নেতাকর্মী

ভোলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাসিক সাহিত্য আড্ডা

ভোলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাসিক সাহিত্য আড্ডা

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

আরও...