অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৯শে আগস্ট ২০২৬ | ১৪ই ভাদ্র ১৪৩৩


ভোলায় অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছধরার মহোৎসব


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:২২

remove_red_eye

২৪০

বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে ও সরকারের প্রনোদনর চাল না পেয়ে বিপাকে জেলে পরিবার


মলয় দে:  ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছের অভয়াশ্রম সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছধরার মহোৎসব চলছে। মৎস্য বিভাগের কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় দিন রাতে প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে যেমন মাছ ধরা চলছে, তেমনি হাটবাজারে ডাক দিয়ে বেঁচা বিক্রি চলছে। এতে করে ইলিশ সহ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে দুই মাসের যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তার লক্ষ ও উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জেলেরা বলেছেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাঁর উপর মহাজন ও এনজিওর ঋণগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলো  নানা সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় সরকারের সহযোগিতাও তারা সঠিক ভাবে পাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে তারা জীবিকার তাগিদে  চরম ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরছে। এমন পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখাসহ  দ্রুত সরকারি প্রণোদনার চাল বিতরণের দাবী জানিয়েছেন জেলেরা।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে,ইলিশের অভয়াশ্রম তৈরি করতে গত পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ২ মাস  ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটারসহ মোট ১৯০ কিলোমিটার নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মাছের অভয়াশ্রম হওয়ায় জেলার মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ শিকার, বাজারজাত, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও ভোলায় এর বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রকাশ্যেই চলছে মাছ ধরা ও কেনা-বেচা। দেখা বোঝার কোন উপায় নেই যে, নদীতে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা চলছে।

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাছ শিকারের জন্য জেলেরা নৌকায় ও ট্রলারে জাল বোঝাই করে ছুটছেন মেঘনার বুকে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে জাল ফেলছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ধরা হচ্ছে জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মাছ ধরা শেষে কিছু সময় পরপর তুলাতুলি মাছ ঘাটে  ফিরছেন জেলেরা।  মাছের আড়ৎগুলোতে আড়ৎদারদের যেন দম ফেলারও সময় নেই।জেলেদের নিয়ে আসা মাছ বাক্সে ফেলে প্রকাশ্যে হাক-ডাক দিয়ে দাম তুলছেন।এমন দৃশ্য দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখন নিষেধাজ্ঞা চলছে। শুধু এ মাছ ঘাট   নয়,জেলার প্রতিটি ঘাটের চিত্রই এমন।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার এক মাস পার হলেও তারা এখনো সরকারি বরাদ্দের চাল পাননি। পাশাপাশি এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির চাপ থাকায় জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে নদীতে নামতে হচ্ছে। জেলে মো. আবু তাহের ও মো. ইব্রাহিম বলেন, “পেটের দায়ে নিষেধাজ্ঞা মানা সম্ভব হচ্ছে না।"

এদিকে শাহাবুদ্দিন নামে এক জেলের অভিযোগ, ছোট নৌকায় মাছ ধরতে গেলে তাদের ধাওয়া করা হলেও প্রভাবশালী জেলেরা অবৈধ জাল দিয়ে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছে।

নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে প্রকাশ্যে মাছ বেচা-কেনা বিষয়ে কথা বলতে রাজি ছিলো না তুলাতুলি মাছ ঘাটের কোন  আড়ৎদাররা। পরে তাদেরই একজন মো.আলাউদ্দিন বলেছেন,জেলেদের মতো তারাও আর্থিক সংকটে রয়েছেন। সংসার চালাতে ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই মাছ বেচাকেনা করছেন।

বর্তমানে শহরের বাজার থেকে শুরু করে গ্রামের হাট-বাজার, এমনকি সড়কের পাশেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাছ। এতে করে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। 

ভোলার সচেতন মহল বলছেন, মৎস্য বিভাগের তদারকি দৃশ্যমান নয়, বরং তারা অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে ৯০ হাজার ২১৩ জনকে মাসে ৪০ কেজি করে ৪ মাস চাল দেওয়ার কথা। এ জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৪ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন চাল। তবে ভোলা সদর উপজেলার জেলেরা এখনো এ সহায়তা পাননি।


জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, অন্যান্য উপজেলায় চাল বিতরণ প্রায় শেষ হলেও সদর উপজেলার চাল এখনো গুদামে পৌঁছেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হবে।

অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া পূর্বে অভিযানে যাওয়ার সময় লালমোহনে একটি দুর্ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য মারা যাওয়া পর অভিযান কার্যক্রম কিছুটা শিথিল হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকাশ্যে মাছ বিক্রির বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উপজেলা পর্যায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাটকা সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। তাই অভয়াশ্রম কার্যক্রম বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি এবং জেলেদের জন্য সময়মতো সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

মক্কা চুক্তির বিষয়ে সব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

মক্কা চুক্তির বিষয়ে সব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

মির্জা ফখরুলকে পুতিনসহ ৭ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অভিনন্দন

মির্জা ফখরুলকে পুতিনসহ ৭ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অভিনন্দন

গুমের দিন শেষ, বিগত ঘটনারও বিচার হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

গুমের দিন শেষ, বিগত ঘটনারও বিচার হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশের মানুষ: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশের মানুষ: প্রধানমন্ত্রী

অপরাধ দমনে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধ দমনে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামীকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

আগামীকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

জুলাই শহীদ ও গুমের শিকার পরিবারের আরও ৭৪ জন চাকরি পেলেন

জুলাই শহীদ ও গুমের শিকার পরিবারের আরও ৭৪ জন চাকরি পেলেন

গুমবিরোধী আইন নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে: হুম্মাম কাদের

গুমবিরোধী আইন নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে: হুম্মাম কাদের

হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ

হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ

আরও...