অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ | ১৪ই ভাদ্র ১৪৩৩


জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ই মে ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:১৩

remove_red_eye

১৩৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে  পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরী হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।'

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেডে’ এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, 'পুলিশের কাজ 'দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন'। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে আপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে।'

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন,'জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যায় সেখানে তারা আপনাদের আচরণে যেন কিছু হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখা দরকার, আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসে। পুলিশের সহায়তা চান।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না। তাই থানায় যাওয়ার পর তার বিপদ কমবে মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। তবে সেখানে যদি মানবিকতার ছোঁয়া থাকে তাহলে আপনাদের কারণে সরকারের সাফল্যগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'

পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পুলিশ সদস্যরা তাদের দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; তারা হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার।'

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলো। সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ ও আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সুতরাং সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের চাওয়া পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।'
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আমরা থানাগুলোর পরিবেশ এমনভাবে করতে চাই, যা আইজি সাহেব ওনার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, যেন একজন মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারেন এবং একসাথে প্রতিকারও পেতে পারেন।'

তিনি বলেন,'জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। তাই কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে'র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।’

মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা চুরি-ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দেশে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার ব্যাপারেও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে 'মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল' টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালাতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।'

তিনি বলেন, 'এ লক্ষে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এসব বিষয়গুলোকে আরো কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।'

সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে  সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি কিংবা পুলিশে নিয়োগ এসব ক্ষেত্রে মেধা যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাকেই আমরা প্রাধান্য দিতে চাই।'

পুলিশে বাহিনীকেও আরো দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'দ্রুত পরবর্তনশীল এই বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীকেও আরো দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষে পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন এবং ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। '

সরকার জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি দুর্বল শাসন কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃংখলা পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে আপনাদের সকল প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েকমাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবো না।

অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের পথ সহজ নয়, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য মহৎ। আমরা একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।'

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 





ভোলার প্রথম সাংবাদিক আবু তাহেরকে সংবর্ধনা

ভোলার প্রথম সাংবাদিক আবু তাহেরকে সংবর্ধনা

চরফ্যাশনে ভারতীয় অবৈধ ট্রলিং বোট ও ১১ জাল জব্দ

চরফ্যাশনে ভারতীয় অবৈধ ট্রলিং বোট ও ১১ জাল জব্দ

চরফ্যাশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

চরফ্যাশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ইলিশায় মেসার্স এমএন ট্রেডিং এর উদ্বোধন

দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ইলিশায় মেসার্স এমএন ট্রেডিং এর উদ্বোধন

ভোলায় ডেঙ্গু বিস্তার রোধে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

ভোলায় ডেঙ্গু বিস্তার রোধে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

মনপুরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার করলেন যুবদলের নেতাকর্মী

মনপুরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার করলেন যুবদলের নেতাকর্মী

ভোলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাসিক সাহিত্য আড্ডা

ভোলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাসিক সাহিত্য আড্ডা

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

লুট-অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলেই ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লুট-অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলেই ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আরও...