অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২৫শে মে ২০২৬ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ঈদের আগেই মাংসের মসলার দাম ঊর্ধ্বমুখী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫শে মে ২০২৬ বিকাল ০৫:১২

remove_red_eye

৩৩

রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজারে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিছু মসলার দাম বাড়লেও অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। 

সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়তে শুরু করায় বিশেষ করে গরম মসলা, এলাচ, লবঙ্গ, কিশমিশ ও জিরার মতো মসলা-পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে অন্যান্য অনেক পণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
 

 

বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত মসলার আধিপত্য বেশি দেখা যাচ্ছে। মার্কেটের পাশাপাশি অলিগলির ছোট দোকানেও বিভিন্ন ধরনের মসলা বিক্রি হচ্ছে।

খোলা মসলা সাধারণত প্যাকেটজাত পণ্যের তুলনায় প্রতি ১০০ গ্রামে ১০ থেকে ২০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

 

বাজারে কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা।

খোলা শুকনা মরিচ প্রতি ১০০ গ্রাম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্যাকেটজাত শুকনা মরিচের গুঁড়া কোম্পানি ভেদে প্রতি ১০০ গ্রাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। পাইকারি বাজারে খোলা শুকনা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

 

হলুদের গুঁড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ৭৫ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরার গুঁড়া ১০০ গ্রাম ১৪০ টাকা, আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। ধনে গুঁড়ার দাম প্রতি ১০০ গ্রাম ৬০ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা। গরম মসলার গুঁড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ৮০ টাকা এবং গোল মরিচের গুঁড়া একই পরিমাণে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে গোল মরিচের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া প্যাকেটজাত বিরিয়ানি মসলার ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

আস্ত মসলার বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। দারুচিনি প্রতি ১০০ গ্রাম ৮০ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। এলাচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি ১০০ গ্রাম এলাচ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে এর দাম প্রতি কেজি ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকা। লবঙ্গ প্রতি ১০০ গ্রাম ২০০ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা। তেজপাতা প্রতি ১০০ গ্রাম ৩০ টাকা, জিরা ৮০ টাকা এবং ধনে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাটা বা পেস্টজাতীয় মসলার মধ্যেও কিছু পণ্যের দাম বাড়তি রয়েছে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং পাইকারিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আমদানি করা বড় রসুনের দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। আদা বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হলেও পাইকারিতে এর দাম ১৪০ টাকা।

বাদাম ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চিনাবাদাম প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং কাঠবাদাম প্রতি ১০০ গ্রাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এছাড়া সরিষার তেলের ২০০ গ্রামের বোতল ১০৫ টাকা, ২০০ গ্রাম ঘি ৩৫০ টাকা এবং আধা কেজি দই ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৯৭৫ টাকা। রাইস ব্র্যান তেলের দুই লিটার ২৪০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার ১৬০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে কিছু আমদানিনির্ভর মসলার দাম বেড়েছে। বিশেষ করে আলুবোখারা, জিরা, কিশমিশ, লবঙ্গ ও এলাচের দাম গত কয়েক মাসে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ছয় মাস আগেও আলুবোখারার দাম ছিল প্রতি কেজি ৭২০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।