বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫শে মে ২০২৬ বিকাল ০৫:২৫
৩৬
গণঅভ্যুত্থানের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সুফল পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হলেও কমিশন প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে না। এ নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) ১৮৯৮-এর ধারা ১২(১) ও ১৭ এবং ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার (In Aid to Civil Power) বিধান অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় মোতায়েন করা হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। জাতীয় নির্বাচন কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্বাচন। আর এখন যে নির্বাচনটি হবে তা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য। কাজেই আমরা মনে করি না যে সেনাবাহিনী রাখব। এসব নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সেনাবাহিনী ছাড়া অন্যান্য বাহিনী থাকবে। স্থানীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়ে আমরা কোনো চিন্তাভাবনা করি নাই। প্রথম ধাপে আমরা সেনাবাহিনী ছাড়া করে দেখব। যদি নির্বাচন সন্তোষজনক না হয় তাহলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করব।
আরপিওতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী রয়েছে— এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিতে কোনো সংশোধন প্রয়োজন হবে কি না, নাকি আরপিও দিয়েই তা করা যাবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমরা ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার (In Aid to Civil Power) বিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করতে পারব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিতে সেনাবাহিনীকে নতুন করে যুক্ত করতে হবে না।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে বেশি সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, অতীতে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন কারবালার পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে এবং একই পরিবার বা একই এলাকার প্রার্থীদের মধ্যেও সংঘাত দেখা দেয়। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে রক্তপাতহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা নির্বাচনকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। আমরা চাই ভালো নির্বাচনের একটি সংস্কৃতি চালু হোক। শুধু একটি নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতের সব নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একা কোনো নির্বাচন সফল করতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক এবং ভোটারসহ সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ সেনাসদস্য মোট ১৩ দিনের জন্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেছে। তারা ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিল।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে আরও ৩৪৯টি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
জানা গেছে, নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সে হিসাবে দেশে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় দেশের উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।
নতুন উপজেলাগুলো হলো— বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা।
ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে আরও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈদযাত্রায় ইলিশা-মজুচৌধুরীহাট নৌপথে দুর্ভোগ, ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোট-ট্রলারে পারাপার
লালমোহনে মেধা, সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
চরফ্যাশনে মাদক ব্যবসায়ীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করল জনতা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
তুলে ধরা হলো সরকারের ১০০ দিনের কাজের অগ্রগতি
১৬ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নজরুলের সাহিত্য ছিল বড় প্রেরণা : রিজভী
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন
পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কার কত
নতুন করে ৩ বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচিতে সম্মত বাংলাদেশ ও আইএমএফ
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক