অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৮শে আষাঢ় ১৪৩৩


চরফ্যাশনে বিপজ্জনক চায়না রিং জালে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ই জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:৪১

remove_red_eye

৫১

এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন থেকে : নদনদী ও খাল বিল জলাশয়ে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। যতটা কমছে ঠিক ততই মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলো যেনো আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এই আগ্রাসী শিকারিদের সঙ্গে তাল মেলাতেই বাজারে এসেছে এক ধরনের বিশেষ চায়না রিং জাল। এলাকাভেদে একে চায়না দুয়ারি, ম্যাজিক জাল নামেও ডাকা হয়। তবে জালটির ব্যবহারে অচিরেই দেশীয় মাছ বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আষাঢ়ে এখন পানিতে চারদিক থৈ থৈ করছে।  বর্ষার নতুন পানিতে খাল বিল ও জলাশয় ভরে গিয়ে দেখা দিয়েছে দেশীয় প্রজাতির নানান মাছ। আর এ মাছ নিধনে বিপজ্জনক চায়না রিং জাল ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার দেখা দিয়েছে চরফ্যাশন উপজেলায়। 
জানাগেছে,উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বেশীর ভাগ এলাকার খাল-বিল অতি ভারি বর্ষার পানিতে এখন পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ডুবে যাওয়া মানুষের এসব পুকুর ঘের ও নদনদী থেকে প্রাকৃতিক জলাশয় ও বিলের নতুন পানিতে বাইলা,পুটি,টেংরা,পাংগাস ও রুই কাতলাসহ বাইম,বুতকুলি,খলশে এবং কৈ শিং মাগুর বোয়াল শৈল টাকি চান্দাকাটা ভেদা হোয়াইল্লা পাবদা মাছসহ বিভিন্ন দেশি মাছ চলে এসেছে। এসব মাছ শিকারে যত্রতত্র রিং জাল বা চায়না দুয়ারির ফাঁদ পেতে শিকার করছে জেলেরা। পাশাপাশি মৌসুমি জেলে এবং স্থানীয় নারী ও শিশুরাও এতে অংশগ্রহণ করেছে। স্থানিয়রা বলছেন, গত ১০ বছর আগেও এ উপজেলায় মাছ ধরার জন্য দেশীয় ফাঁদ ব্যবহার করা হতো। ঝাউ, চাই,ফলোফা,ঠেলা জাল ও বরশি ইত্যাদি ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার করা হলেও এতে দেশি মাছের প্রজাতি কমে যাওয়া নিয়ে সংশয় ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে চায়না রিং জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহারে দেশি মাছ বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে।


গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দেখা গেছে, অসাধু এসব শিকারীরা নিজেদের খাওয়া ও বিক্রয়ের জন্য কারেন্ট জাল এবং চায়না রিং জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চায়না রিং জাল ব্যবহার করা এক জেলে জানান,এ জালে যেকোনো মাছের পাশাপাশি সাপ,ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ধরা দেয়। খালে-বিলে নতুন পানি আসলেই তারা এ জাল ব্যবহার করেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এ উপজেলায় গভীর খাল-বিল বা জলাশয়ের সংখ্যা কম। এছাড়াও শুকনো মৌসুমে এ খাল বিলগুলোতে পানি না থাকেনা। যার ফলে দেশী প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে৷ চায়না রিং জাল ও কারেন্ট জালের ব্যাপারে নিয়মিতি অভিযান পরিচালনা করে এগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। খুব শিগগিরই মৎস্য প্রশাসন এসব জাল জব্দে মাঠে নামবেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা।