অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৯শে আষাঢ় ১৪৩৩


স্থানীয় নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত হচ্ছে সেনাবাহিনী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ই জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২৫

remove_red_eye

১১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধন এনে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিতেও সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করার ফলে নির্বাচন পরিচালনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সে কারণে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিতেও সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইন-বিধিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করা হবে।’

স্থানীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সংজ্ঞায় যুক্ত করে রাখছি। প্রয়োজন হলে মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরোপুরি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তামানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ২০০৯ অনুযায়ী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ অর্থ পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ান আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্টগার্ড বাহিনী। তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন এ আইন সংশোধন হলে পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ান আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্টগার্ড বাহিনী পাশাপাশি সশস্ত্রবাহিনীকেও স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে মোতায়েনের আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে।

Vote

ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।

পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভা এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়।

উপজেলা পরিষদের রোডম্যাপ থেকে জানা যায়, নতুন ৫টি উপজেলাসহ দেশে মোট উপজেলা ৫০০টি। কোনো উপজেলাতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব উপজেলাই নির্বাচন উপযোগী।

নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের কোনোটিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব সিটিই নির্বাচন উপযোগী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।