অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই ২০২৬ | ৩০শে আষাঢ় ১৪৩৩


চরফ্যাসনের জরাজীর্ণ ডাকঘরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ই জুলাই ২০২৬ রাত ১০:৩৫

remove_red_eye

৩৯

যেকোনো সময় ধ্বসে প্রাণহানীর শঙ্কা


এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন থেকে : চরফ্যাসনের জরাজীর্ণ ডাকঘরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম।  এতে করে যেকোনো সময় ধ্বসে যেতে পারে এ ডাকঘর। সংস্কারের অযোগ্য বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে ঘোষণা করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও ভেতরে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরফ্যাশন উপজেলা ডাকঘর ভবনটি  জরাজীর্ণ ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো ফাটল দেখা দিয়েছে। পিলার, ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। জানালার গ্রীল, গ্লাস ভাঙা। নোংরা ওয়াসরুমে দুর্গন্ধ। এর ভেতরেই অফিসটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে দাপ্তরিক কাজকর্ম করে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান,ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উপর মহলের প্রায় সবাই জানে। বিভাগীয় কর্মকর্তা বরাবর চিঠিও দেয়া হয়েছে। তবে কবে কাজ হবে, সেটি কেউ জানে না। মাঝেমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে কর্মচারীদের গায়ে পড়ে। ভয় লাগে কিন্তু কিছুই করার নেই বলে জানান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। 

মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,চরফ্যাশন সদর কলেজ রোডে অবস্থিত ডাকঘর ভবনটির পেছনে ময়লা আবর্জনার ভরে গিয়েছে। ভবনের সামনে সাইনবোর্ডে লেখা চরফ্যাশন উপজেলা ডাকঘর। গেটের বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না এটা একটা সরকারি কার্যালয়। ঘাস আর বিভিন্ন উদ্ভিদ দেয়ালের গায়ে ঝোপ হবে আছে। এর ভেতরেই পোস্ট ম্যান সেবা দিচ্ছেন।
একজন সেবা প্রার্থী শিক্ষক আবদুল মন্নান বলেন, এই পোস্ট অফিসে ঢুকলেই ভয় লাগে। কখন ছাদ ভেঙে পড়ে এই ভেবে দ্রুত কাজ সেরে চলে আসি।
পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠাতে আসা ব্যবসায়ী জালাল উদ্দীন বলেন, প্রায় সময় এই অফিসে আসি। ভবনটি সংস্কারের জন্য এর আগে এক ঠিকাদার কাজ করতে এসেও তিনি এর সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ না করেই বন্ধ করে দেন। ভবনটি মেরামতের অযোগ্য বলে। 


দাপ্তরিক চিঠি পাঠাতে আসা একটি সংস্থার ম্যানেজার হামিদুর রহমান বলেন, অফিস লেটার পাঠাতে প্রায় সময় এই ডাকঘরে আসা যাওয়া হয়। কিন্তু এই ভবনের ছাদের ফাটলের দিকে তাকালে হার্টবিট বেড়ে গিয়ে বুকের মধ্যে কামড় দিয়ে ওঠে। মনে এই বুঝি পিলার ও দেয়াল ভেঙে গায়ে পড়বে। দেয়াল ছাদের পলেস্তারা খসে গিয়ে ভবনটি দেখতে কলা বাদুড়ের বাড়ির মতো মনে হয়।
ডাকঘর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের দিকে প্রায় ৪০ শতক জায়গা নিয়ে দুইতলা বিশিষ্ট নির্মিত এ ডাকঘর কার্যালয়টি উদ্বোধন করা হয়। তবে বর্তমানে এর অর্ধেক জমি সরকারি অন্যান্য উন্নয়ন স্থাপনায় দেয়ায় এ প্রতিষ্ঠানের জমি কমে গিয়েছে। প্রায় ৩বছর আগে ভবন মেরামতের কাজ হলেও ভবনটি সংস্কারের অযোগ্য হিসেবে তা বন্ধ হয়ে যায় বলে চরফ্যাশন ডাক ঘরের সাবেক পোস্ট মাস্টার মো.ইকবাল জানান। 
বর্তমান পোস্টমাস্টার মো.আলমগীর জানান, প্রতিদিন সরকারি চিঠিপত্র,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক্সাম পেপার বিভিন্ন চাকরির প্রবেশপত্র ও পার্সেল ডাকঘরে আসে। বেসরকারি ও ব্যক্তিগত চিঠিও আসে। এ ছাড়া কিছু গ্রাহক আছেন যারা প্রতি মাসে ‘ডাক জীবনবীমা’র টাকা জমা দেন এ অফিসে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এখানে ঝুঁকি নিয়ে কম্পিউটার ক্লাস করেন। এছাড়াও পুরো ভবনটি স্যাঁতসেঁতে হয়ে গিয়েছে। ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন জায়গার পলেস্তারা খসে পড়ছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই দাপ্তরিক কাজকর্ম করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটি মেরামতের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ভবনটির অবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার উপযোগিতা হারিয়েছে। এ বিষয়ে পূর্বেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন ও অবগত করা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে উক্ত ভবনটি যেকোনো সময় ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং প্রাণহানীর আশঙ্কাও রয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পোস্ট অফিসের বর্তমান ভবনটি দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণার পাশাপাশি অফিসটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।