অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই ২০২৬ | ৩০শে আষাঢ় ১৪৩৩


বোরহানউদ্দিনে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ই জুলাই ২০২৬ রাত ১০:৪০

remove_red_eye

৩৩

বিশেষ প্রতিবেদক : রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে করা এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং তীব্র যানজটে নাজেহাল অবস্থার সম্মুখীন হন সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার দুপুরের পর বোরহানউদ্দিন আব্দুল জব্বার সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, চলমান শিক্ষা সংকটের সমাধান এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও),  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ বিএনপি নেতারা তাঁদের বুঝিয়ে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। 
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর কিছু মন্তব্য শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাহানিকর। একজন আন্দোলনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করেন, তার দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল বন্যা ও পরীক্ষা নিয়ে বৈষম্যমূলক নীতি। শিক্ষার্থীরা জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় কোমড়সমান দুর্গন্ধযুক্ত পানি অতিক্রম করে অনেককে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও অন্যান্য অঞ্চলে কেনো পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা দিতে বাধ্য করাকে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবিচার বলে আখ্যা দেন। এছাড়া দীর্ঘ করোনা মহামারীর পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা দিচ্ছেন। অথচ প্রশ্নপত্র বিগত ১০ বছরের সাধারণ ধারার বাইরে তৈরি করা হয়েছে, যা বুয়েট বা বিসিএস পরীক্ষার মতো অত্যন্ত কঠিন বলে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষা শিক্ষাবান্ধব করার দাবি জানান।
একই সাথে বোরহানউদ্দিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সিসিটিভির মাধ্যমে অতিরিক্ত কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষিকার নেতিবাচক, অপমানজনক ও রূঢ় আচরণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের হিজাব ও মাস্ক পরা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং তাঁদের ওপর নকল করার মিথ্যা অভিযোগ এনে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করে তারা কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেন।
পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি  মনিরুজ্জামান কবির মিয়া এবং বোরহানউদ্দিন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সরোয়ার আলম খান,ছাত্রদল নেতা এবং স্থানীয় নেতারা। তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবি ও অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয় যে, তাদের দাবিসমূহ ও সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে ইউএনও শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা না করে শান্ত থাকার এবং নিজেদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও পরীক্ষা কেন্দ্র সংক্রান্ত অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে শুনে সমাধানের লক্ষ্যে বিকেলে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। 
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বৈঠকে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে তারা পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।