অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৭ই জুলাই ২০২৬ | ২রা শ্রাবণ ১৪৩৩


চরফ্যাশনে জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ই জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:২১

remove_red_eye

চরফ্যাশন প্রতিনিধি: ১৬ জুলাই ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে বেগম রোকেযা বিশ্ববিদ্যালযরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চরফ্যাশনের উপজেলার ওচমানগন্জ ইউনিয়নের নিহত সিয়াম (১৫), নীলকমলেরর্  নিহত হোসেন (২৫), নিহত সোহাগ (১৫), নিহত হাছনাইন আহম্মেদ (২৬), নিহত বাহাদুর হোসেন মনির (১৬), উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মো রাব্বী (২০), ওমরপুর গ্রামে তারেক (১৮) সহ সেই দিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন চরফ্যাশনের উপজেলার ১৭জন সাধারন নাগরিক। তাঁদের স্মরণে ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতে দেশন্যায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাজুড়ে এই দিনটি পালিত হচ্ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি সংবাদকমীরা উপস্থিত ছিলেন।
 আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতীয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু, মেডিকেল অফিসার ডা আশরাফুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি কয়সর আহমেদ কমল, সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক রেজাউল হাসান ইমরান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বাহার উদ্দিন, শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহম্মেদ, দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির  মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো নুরনবী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, এনজিও সুশীলনের কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ, জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা সংবাদ কমীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রমুখ।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধারা বলেন, “অনেক ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক যোদ্ধা কটূক্তি ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন।”
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সকল সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জুলাই শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি, অবমাননাকর মন্তব্য কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও অর্জন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।তারা আরো বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ, রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে জুলাই শহীদরা জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। দেশের গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। জুলাই যোদ্ধারা জাতির নতুন অনুপ্রেরণা। তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।





আরও...