অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে জুলাই ২০২৬ | ১৫ই শ্রাবণ ১৪৩৩


ভোলায় বিধবার পরিবারকে জালিয়াতির মাধ্যমে বসতভিটা থেকে উৎখাতের চেষ্টা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯শে জুলাই ২০২৬ রাত ১১:২৭

remove_red_eye

২৪৯

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাদেগো বাড়ির বিধবা বিনু বেগমের পরিবারকে তার বসতভিটে মাটি থেকে উৎখাতে একের পর এক নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাল দলিল থেকে শুরু করে মিথ্যা তদন্ত রির্পোট সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করায় অসহায় পরিবারটি এখন ন্যায় বিচার পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

এদিকে প্রতিপক্ষের নানা ধরনের হুমকি ও বাধার মুখে বিধবা নারী তার জরাজীর্ণ বসতঘরটি এখন মেরামত করতে পারছেনা। বৃষ্টি এলেই চাল দিয়ে পানি পড়ে, দরজা ভেঙে গেছে। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় বিধবা বিনু বেগম তার স্বামীর বসতভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিধবা বিনু বেগম অভিযোগ করেন, দক্ষিণ চরপাতা ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাদেগো বাড়িতে তার স্বামী সিরাজের ওয়ারিশ সূত্রে ভোগ দখলীয় জমিতে ছেলে মেয়ে নিয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে ৬ শতাংশ বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন । বর্তমানে তার এক ছেলে ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন । দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি একাই ওই বসতভিটায় বসবাস করছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই দেবররা তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি শালিশ করে ৮/৬/২৩ তারিখে সিরাজের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ভোগ দখলীয় ৬ শতাংশ বসতভিটা ঘর অন্য কেউ দাবী করতে পারবে না মর্মে রায় প্রধান করেন ।

এতে মৃত স্বামী মোঃ সিরাজের পিতা আজিজুল হক জীবিত থাকা অবস্থায় ওই জমি তার মৃত ছেলে সিরাজের স্ত্রী সহ ছেলে মেয়েদেরকে বুঝাইয়া দেয় এবং ওই জমি দ্বিতীয় পক্ষ মানিক ও নুরুউদ্দিন তাদের বলে দাবী করতে পারবে না বলে (সালিশনামা) রোয়াদাতে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই শালিস রোয়াদাত না মেনে মানিক ও নুরুউদ্দিন একটি ভূয়া জাল দলিল দিয়ে বিধবা বিনু বেগমের পরিবারকে বাড়ি থেকে উৎখাতের চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে,তাদের বাবা মো. আজিজুল হকের মৃত্যুর এক মাস পর দলিল সম্পাদনের তারিখ লেখা হয়।

এ বিষয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলেও পরে সমঝোতার আশ্বাস দিলে মামলার বাদী ওই অসহায় বিধবা নারী মামলা পরিচালনা না করায় সেটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর আবারও তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার পর বিনু বেগম গত ১৬/০৬/২০২৬ ইং তারিখে নিজের ভিটা মাটির দখলদারিত্ব রক্ষার্থে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি এম পি মামলা দায়ের করেন । যার নাম্বার (এমপি মোকাদ্দমা নং-৫৫০/২০২৫ )।

এই মোকাদ্দমার আলোকে গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ইলিশা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো: মোস্তাফিজুর রহমান তদন্তে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং উপস্থিত লোকদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করে প্রতিপক্ষ মানিক ও নুরুদ্দিনের মায়ের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে বাদীর ২০/২৫ বছরের দখল অস্বীকার করে বাদিনীর বিপক্ষে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন । কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই জমিতে আনুমানিক ২০/২৫ বছর ধরে বিনু বেগম তার স্বামীর ঘরে বসবাস করছেন। ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো: মোস্তাফিজুর রহমান প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা তদন্ত রির্পোট দিয়েছেন।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, ওই বিধবা নারী স্বামীর ভিটা দক্ষিণ চরপাতা ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাদেগো বাড়িতে না থেকে মাঝের চর গুচ্ছ গ্রামে থাকেন। কিন্তু তিনি আদৌ গুচ্ছ গ্রামে বসবাস করতেন না বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী আরো জানান, বাদিনী বিনু বেগম দক্ষিণ চরপাতা ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাদেগো বাড়িতে নিজের বসত ভিটায় র্দীঘ দুই যুগের বেশী সময় বসবাস করেন। সেই বাড়িতে থাকা পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং নং ২০। ওই ঘরে তার ছেলে মো: স্বপনের নামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ লাইন রয়েছে। হিসাব নং ৩৫৬-৩৬৪০। মিটার নং ১৮১২২৯। কিন্তু এসব নানা প্রমান থাকা স্বত্বেও মিথ্যা তদন্ত রির্পোট দেয় ওই ভূমি কর্মকতা।

এমতাবস্থায় ভূমি কর্ম কর্তার ভুয়া তদন্তের বিপক্ষে বাদিনী বিনু বেগম ০৩/০৬/২০২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে পুনঃ তদন্ত চেয়ে আগের তদন্তের বিরুদ্বে একটি নারাজি দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত উক্ত নারাজির পক্ষে ০৩/০৬/২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভুকি) এস এম মশিউর রহমানকে স্বশরীরে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।

কিন্তু সহকারী কমিশনার এস এ খতিয়ান বনাম বি আর এস খতিয়ানের কার্যক্রম চলমান থাকায় সরেজমিনে তদন্ত না করার অপারগতা প্রকাশ করে ২২/০৬/২৬ ইং তারিখে আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করেন।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, মোঃ মানিক এবং মোঃ নুরুদ্দিন সহোদর ভাই তাদের মৃত বড় ভাইয়ের স্ত্রী বিনু বেগমকে দীর্ঘ দিন ধরে নানা ভাবে অত্যাচার করে আসতেছে। কয়েকবার তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতনের হুমকি দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন হুমকি ধামকির কারণে বাদিনী বিনু বেগম গত ০২/০৮/২৫ ইং তারিখে থানায় একটি জিডি করেন । যার নাম্বার ৭৮, এউ ঃৎধভভরপ হড় : ৩৫খঢঊণ ।

এ ব্যাপারে নুরুদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোন জালিয়াতি করে দলিল করেননি। তাদের পিতা তাদেরকে মৃত্যুর আগে দলিল দিয়েছেন। এই দলিল নিয়ে তার ভাবী আদালতে মামলা করলেও তা আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলেও তিনি দাবী করেন। তবে তার পিতার মৃত্যুর সাটিফিকেট জাল করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। কিন্তু সেই মৃত্যুর সনদ সঠিক করার ব্যাপারে আদালতে কোন মামলা করেননি।