অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ | ১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩


স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০শে আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:৩০

remove_red_eye

৪২

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের-তা সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন-বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে।

এ দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে।

অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ গুরুতর অপরাধ সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।

এ সময় রাষ্ট্রপতি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন এবং ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীর কথা স্মরণ করেন।

এমনকি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিনদেশে ফেলে আসার রোমহর্ষক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসা সত্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের গুম ও খুন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গুম প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে রক্ষা এবং গুমকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।