মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাবকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার নিন্দা ও দোষীদের আইনের আওতায় আনা দাবী জানিয়েছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১ টায় উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাকোড়ালিয়া বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবা শেষে এই ঘটনা ঘটে।
পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টায় আহত শিক্ষক চিকিৎসা নিতে এসে সাংবাদিকদের ঘটনার বর্ননা করে অভিযোগ করেন।
এদিকে শনিবার দুপুর সাড়ে ১১ টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহের মাষ্টারের ওপর হামলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা ও সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিম।
তারা জানান, মসজিদের হিসাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসল্লীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়ে জাহের মাষ্টার আহত হয়। কিন্তু কুচক্রী মহল বিএনপিকে জড়িয়ে ফেইসবুকে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করায় তার নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।
ভুক্তভোগি শিক্ষক ৪১ নং দক্ষিণ রহমানপুর (১৫০০) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক আবদুস জাহের। তিনি ওই ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এই সময় মুসল্লী বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও খরচ বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষক জাহের মাষ্টারের ও তার ছেলেদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে জাহের মাষ্টার রক্তাক্ত হয় ও পাঞ্জাবী ছিঁড়ে ফেলে। পরে জাহের মাষ্টার ও তার দুই ছেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। স্থানীয়রা ঘটনার নিন্দার পাশাপাশি দোষিদের বিচার দাবী করেন।
এই ব্যাপারে শিক্ষক আবদুস জাহের স্যার জানান, বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মোঃ সালাউদ্দিন সরদার, সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন মিলে মব করে আমার ও দুই সন্তানের ওপর হামলা করে রক্তাক্ত করে। আমি মসজিদের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলায় তারা এই হামলা চালায়। এছাড়াও ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িত দোষীদের বিচার দাবী করেন তিনি।
এই ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, জাহের মাষ্টার মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী। শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে মসজিদের উন্নয়নের কথা বলার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আমরা লজ্জিত ও অনুতপ্ত।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, একজন সহকারী শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাদের ওপর এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
এই বিষয়ে মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানান, শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে । ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন,
মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পায়নি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।