অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


দুর্নীতিবাজ ভূমিদস্যু কাহিনী


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০শে ডিসেম্বর ২০২০ রাত ১১:৪৭

remove_red_eye

৮৫৭

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক:  ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী ভূমিদস্যু আব্দুল হাই দুলালের বিরুদ্ধে সরকরি ঔষধ বিক্রি, ঔষধ ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা, নারী কেলেঙ্কারীসহ হাজারো অন্যায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে তিনি সুইপার পদে নিয়োগ নিয়ে ভুয়া ও জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে বর্তমানে স্বাস্থ্যসহকারীর পদে চাকরি করছেন। শুধু তাই নয় তিনি নিজেকে এলাকায় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ডাক্তারের চেম্বার ও ঔষধের দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন। এ ছাড়াও অবৈধ গর্ভপাতসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসার নামে অসহায় দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে এর আগে বিএনপি আমলে একবার তার স্ত্রী মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময় স্ত্রীর পরিবর্তে আব্দুল হাই দুলাল বদ্দার সকল সভা সমিতিতে, বিচার শালিসে নিজে যেতেন। এমনকি সরকারি মিটিংগুলোতেও স্ত্রীর পরিবর্তে নিজে উপস্থিত থাকতেন এবং সই স্বাক্ষর করতেন। যে কারণে তিনি যে একজন স্বাস্থসহকারী তা এলাকার অনেকেই জানেন না। সকলে তাকে দুলাল মেম্বার হিসেবে চিনেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্র জানায়, আব্দুল হাই ওরফে দুলাল বদ্দার সুইপার পদে চাকরি নিয়ে বর্তমানে স্বাস্থ্যসহকারী পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কর্মস্থল হচ্ছে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৭,৮ও ৯ নম্বর ওয়াড। স্থানীয়রা জানান, তার বাড়ি ৯ নম্বর ওয়াডে হওয়ায় তিনি বাড়ির সামনে ডাক্তারের চেম্বার ও ঔষধের দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন। তিনি নিজেকে ভোলা সদর হাসপাতালের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বেড়ান।
গতকাল সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আব্দুল হাই দুলাল বদ্দার জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় অনেকের জমি দখল করে নিয়েছে এবং অনেকের জমি দখলের পায়তারা করছে। অভিযোগ করেন, জনৈক আব্দুর রবের কাছ থেকে ২০ শতাংশ জমির দলিল নিয়ে রোশনা বেগমের কাছ থেকে ২৪ এবং রুহুল আমিনের কাছ থেকে ১৮ শতাংশ জমি গোপনে রেকর্ড করিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে প্রায় ৬০ বছেরের অধিক সময় ধরে ভোগ দখলে থাকা রুহুল আমিনের জমিতে জবর দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা আরও জানান, আব্দুল হাই সারা রাত তার ঔষধের দোকানে অবস্থান করেন। গ্রামের একটি ঔষধের দোকান ঝাম নামিয়ে সারা রাত খোলা রাখার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ গভীর রাতে অচেনা অনেক লোকজনকে তার দোকানে যাতায়াত করতে দেখা যায়। গোপনে মাদক ব্যবসার সাথেও তিনি জড়িত রয়েছেন বলেও স্থানীয়দের ধারণা। সাংবাদিকরা গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করায় তিনি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার জন্য থানায় যান। ভোলা থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, আব্দুল হাই দুলাল বদ্দার নামের এক ব্যক্তি একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। তবে তার কথাবার্তা এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ ভিত্তিহীন মনে হওয়ায় গ্রহণ করা হয়নি। এসব অভিযোগ সম্পর্কে আব্দুল হাই দুলাল বদ্দার জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।  [চলবে ]