অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলার রাজাপুরে ভূমিদুস্য রফিককের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ই এপ্রিল ২০২১ রাত ১০:০৯

remove_red_eye

৭১৫


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় পুত্রদের লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা দিয়ে প্রতিক্ষকে ফাঁসানোর ঘটনা আদালতে ফাঁস হলে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রফিক বেপারীর শাস্তি ও বিচার দাবিতে শুক্রবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। রফিকের বাড়ি জেলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড শ্যামপুর গ্রামে।
প্রতিপক্ষের জমি হাতিয়ে নিতে   দুই পুত্রকে অপহরণ দেখিয়ে মামলা করেন রফিক।  নারায়নগঞ্জ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই পুত্রের আদালতে স্বীকারোক্তির পর তোলপাড় শুরু হয় এলাকায়। ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাজাহান ( সাজল) ও রাজাপুর ইউপি সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, তিন বছর আগে রফিক তার দুই পুত্র অপহরণ হয়েছে, এমন অভিযোগ দিয়ে দুটি পৃথক মামলা করে আপন ৩ ভাইসহ এলাকার ৯জনকে আসামী করে একাধিকবার কারাগারে পাঠান। ওই সুযোগে ভাইদের জমি দখল করে নেয়। একইভাবে এলাকার আরো  ২০জনকে কাউকে ডাকাতি মামলা, কারো বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে হয়রানী করেন। এমন অভিযোগ রাজাপুর ইউনিয়নের কয়েকশ মানুষের। এরা রফিকের ফাঁসি দাবি করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রফিকের দায়ের করা মামলার আসামী আপন ভাই আব্দুর রহিম, মোঃ সেলিম, মোঃ ইয়াছিন, এলাকার মিজানুর রহমান মিঠু, জয়নাল আবুল মাঝি, কাসেম বেপারী, আব্দুল গণি ফরাজী। উল্লেখ্য ২০১৭ ও ২০১৮ সালের দায়ের করা দুটি পৃথক অপহরণ মামলায় নিজের  তিন ভাইসহ ৯ জনকে আসামী করা হয়ে ছিল। বিনাদোষে এরা কারাভোগ করেন। অপরহরণ মামলার তিন বছর পর আত্ম গোপনে থাকা রফিকুল ইসলামের দুই পুত্র ঈমাম হোসেন ইমন ( ১০) ও নাজিম উদ্দিন ( ২৫) কে পুলিশ নারায়নগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে ভোলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে । উদ্ধার পাওয়া দুই পুত্র আদালতকে জানায়, তারা অপহৃত হয় নি। তাদের পিতা মামলা সাজাতে তাদেরকে প্রথমে চট্টগ্রামে পরে, ঢাকায় ও নারায়নগঞ্জে পাঠিয়ে দেন। নারায়নগঞ্জে ঈমাম হোসেনের নাম পাল্টে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। অপর দিকে নাজিম উদ্দিনও নাম পাল্টে একটি ফার্মে চাকুরি নেয়। বিচারক ফরিদ আলম, দুই ভাইকে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানোর পাশাপাশি পিতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, রফিক বেপারী বিপদ আঁচ করতে পেরে পালিয়ে যান। অপরদিকে গতকাল রফিকের বাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় নি। তবে বাড়ির ভেতরে থাকা রফিকের স্ত্রী রানু বেগম সাংবাদিকদের জানান, তার পুত্ররা ৪ বছর আগে হারিয়ে গিয়ে ছিল। শুনেছেন তাদেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু তারা এখনও বাড়ি আসে নি।