অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


মনপুরায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সংযোগের দাবীতে মানববন্ধন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ই জুন ২০২১ রাত ১০:২৫

remove_red_eye

৮৯২




এম শরীফ আহমেদ : সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুতের পরিবর্তে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড থেকে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভোলাস্থ মনপুরাবাসী। শনিবার  সকালে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মনপুরা উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত  ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত  হয়েছে। ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধনে ৩০টাকা ইউনিট থেকে মুক্তি চাই" " জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চাই " শোষণ থেকে মুক্তি চাই"এম নানা শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ  এবং বিভিন্ন  সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মনপুরার বাসীন্দা এ্যাডভোকেট এম সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, শিক্ষা বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মনির হোসেন,শিক্ষক আবদুর রহিম, মনপুরা উন্নয়ন ফোরামের উপদেষ্টা মোঃ মনির আহমেদ,   আহ্বায়ক মোঃ রোকন উদ্দিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক এম শরীফ আহমেদ, সদস্য সচিব মোঃ মিশকাত, স্বেচ্ছাসেবী আলাউদ্দিন রাফী, এইচ এ শরীফ, মোঃ আজিজ রায়হান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, মুজিববর্ষ  উপলক্ষে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার ঘোষণা অনুযায়ী ভোলা জেলার  ছোট ছোট দ্বীপগুলোতে সাবমেরিন ক্যাবলের এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হলেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের  দ্বীপ মনপুরা উপজেলায়  সাবমেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযুক্ত হয়নি। এই উপজেলায়  লক্ষাধিক লোকের বসবাস। উপজেলা সদরে প্রায় ৮ শতাধিক গ্রাহক সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে আসলেও উপজেলার বাকি ৩টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কিছু কিছু এলাকায় সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও তা এখন মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ বাবদ খরচ নিচ্ছে ৩০ টাকা। একজন গ্রাহক প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফ্যান ও বাতি এবং একটি ফ্রিজ ব্যবহার করলে তাকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকায় মনপুরার মানুষের জীবন মানের উন্নতি হচ্ছে না। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ এর  দাবী করে বক্তারা আরও বলেন, আমরা মনপুরাবাসী বৈষম্যের স্বীকার। পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে ফরিদপুরের দূর্গম চরে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌছে গিয়েছে। সেখানে মাত্র ১০ হাজার পরিবার তবুও সেখানে বিদ্যুৎ গেল। এছাড়া ভোলা সদরের ভবানীপুর,  মেদুয়া ও কাচিয়া চর, তজুমদ্দিন উপজেলার মলংচরা, সোনাপুর, চর জহিরউদ্দিন, চর মোজাম্মেল ও চর আবদুল্লাহ, চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি ও মুজিবনগর সহ দেশের ১৬টি চরে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার কাজ দ্রæত গতিতে চলছে। অথচ লক্ষাধিক লোকের আবাসভূমি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় হওয়া সত্বেও  সাবমেরিন ক্যাবলের আওতায় আসেনি। তাই প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের এই মনপুরা দ্বীপের মানুষ জাতীয় গ্রিড থেকে দ্রæত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার জন্য দাবী জানান।