অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২০শে মে ২০২৬ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনা প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম শুরু


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ই নভেম্বর ২০২১ রাত ১০:৩২

remove_red_eye

৪৬৬





বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক :  ভোলায় ১২ থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মাঝে ৮৫ হাজার ৭৯৬ জনের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।  শনিবার সকালে শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ফাইজার টিকা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলা জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত থেকে টিকার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, সিভিল সার্জন ডাঃ কেএম শাফিকুজ্জামান।
শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ছাত্রী এবং শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের ছাত্রদেরকে টিকা দেয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। ভোলার ২টি কেন্দ্রে ৮ টি বুথে শিক্ষার্থীকে এই টিকা প্রদান করা হবে। প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ভয় আর শংকা থাকলেও টিকা নিতে কোন জড়তা ছিলোনা শিক্ষার্থীদের। স্বতফূর্ত ভাবে প্রথম দিন টিকা নেয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকা দিতে পেরে তারা খুবই খুশি।  ২ টি কেন্দ্র দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রর সংখ্য বাড়াবে বলে জানান ভোলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন জানান , প্রথম দিন ছেলে ও মেয়েদের দুই  কেন্দ্রের জন্য প্রথমে ১৫০ করে ৩শ টিকা রাখা হয়। ওই টিকা শেষ হতে আরা ২৫০ টিকা করে প্রতি কেন্দ্রের জন্য ৪শ টিকা দেয়া হয়। অপরদিকে বরিশাল শিক্ষা বিভাগ থেকে শহরের কলেজগুলোকে বলা হয়, সকল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এক যোগে শনিবার টিকা নেয়ার জন্য কেন্দ্রে থাকতে হবে। অপরদিকে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪টি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে বলা হয়। ফলে সকাল ১০টার মধ্যে দুটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ভিড় সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সিভিল সার্জন জানান তাদের দায়িত্ব শুধু টিকা দেয়া। ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শিক্ষা দফতরের। গতকাল এই দুই দপ্তরের কোন সমন্বয় ছিল না।

জেলা শিক্ষা দফতরের গবেষনা কর্মকর্তা নূর ই আলম ছিদ্দিক জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাদেও বলা হয়েছে টিকার অভাব নেই। প্রথম দিন দ্ুিইহাজার শিক্ষার্থী এলেও সমস্যা হবে না। তারা সেই মাফিক ভোলা সরকারি কলেজ, সরকারি শেখ ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজ, বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজ, ওয়াদুল হক কলেজ, হালিমা খাতুন স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রথম দিন টিকা নিতে বলেন।   বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজের অধ্যক্ষ ( ভারপ্রাপ্ত) সুশান্ত কামার মন্ডল জানান, তাদেরকে বলা হয়েছে সকল শিক্ষার্থীদের টিকা নেয়ার জন্য প্রথম দিনই পাঠাতে। কলেজ শিক্ষক ধ্রæব হাওলাদার জানান, ছেলেদের কেন্দ্রে ভীড় সামাল দিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কোন কর্মকর্তাদের দেখা যায় নি। ফলে বাধ্য হয়েই তিনি সহ দুই শিক্ষক উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সামাল দেন।

সিভিল সার্জন জানান প্রথম পর্যায়ে জেলা সদরের ৮৫ হাজার ৭৯৬জনকে টিকা দেয়া হবে। মাউশির তালিকা অনুযায়ি এর মধ্যে রয়েছে স্কুল শিক্ষার্থী ৫৩ হাজার ৫৯২ জন, কলেজ শিক্ষার্থী ৩২৫৪, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ২৮ হাজার ৯৬০ জন। ফাইজারের টিকা পাচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা। ওই টিকা নির্দিস্ট তাপমাত্রায় রাখার জন্য এসি কক্ষে টিকা দেয়া হচ্ছে। মেয়েদেও জন্য জেলা পরিষদের হল রুমে ও ছেলেদেও জন্য ফ্যাসেলেটিজ নতুন ভবনে । প্রথম পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাচ্ছে না  বলেও জানান সিভিল সার্জন।