অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ | ২৯শে আষাঢ় ১৪৩৩


ইলিশের দেখা মিলছে না ভোলায় জেলেদের জালে


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩রা জুন ২০২২ রাত ১২:৩৮

remove_red_eye

৫০৫

জুয়েল সাহা বিকাশ II ভোর থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত ইলিশের আশার ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জাল ফেলেও জেলেদের জালে দেখা মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ। আর আশানারুপ ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে র্তীরে ফিরে আসছেন জেলেরা। যদি জেলেদের জালে দুই থেকে চারটি ইলিশ ধরা পরে তারও কোন কোন জেলেদের ট্ররারের তেলের খরচও উঠছেনা। নদীতে আশানারুপ ইলিশ শিকার করতে না পেরে  জেলেদের দূরদিন চললেও আবার বিভিন্ন এনজিওর কিস্তির চাপে অনেক জেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি, রাজাপুর ইউনিয়নের জনতা বাজার ও ইলিশা ইউনিয়নের জংশন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জেলেদের সাথে আলাপকালে তারা জানান এসব কথা।


ধনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মোঃ সাব্বির মাঝি মোঃ হাসান মাঝি জানান, সকাল ৭/৮ টার দিকে আমরা ১৪ জন জেলে মাছ শিকার করতে নদীতে যাই। বিকেল পর্যন্ত নদীতে জাল বাইছি। ৪৫ লিটার ডিজেল পোরাইছি। প্রায় ৪ হাজার ৫শ’ টাকা খরচ হয়েছে। ছোট বড় মিলে ৮ টি ইলিশ পাইছি। তুলাতুলি ঘাটে নিয়ে ৩ হাজার টাকা বিক্রি করছি। তেলের দোকানে ১ হাজার টাকা দেনা হইছি।
তারা আরো জানান, বর্তমানে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলে তেলের দোকানে দেনা হয়। এজন্য অনেক জেলে নদীতে মাছ শিকার করতে যাওয়া বন্ধ করে দিছে।
ইলিশা ইউনিয়নের জংশন এলাকার জেলে মোঃ ইউসুফ মাঝি জানান, অনেক দিন ধইরা নদীতে মাছ কম থাকার কারণে আমরা বউ বাচ্চা নিয়া তিন বেলাভাত খাইতে অনেক কষ্ট হয়। আমাগো এহন অনেক দুরদিন চলছে।
তুলাতুলি গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক মাঝি জানান, প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরতে যাই কিন্তু নদীতে মাছ নাই। গতকাল পাইছি মাত্র ১৫০ টাকা। আর সমিতির কিস্তি দিতে পারিনা। সমিতির কিস্তির লোকজন বাড়িতে আইয়ে টাকার আদায় করতে বউ বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে সরে গেছে। আমিও নদীর পারে পারে ঘুরে বেড়ায়। কি করমু আমরা গরীব মানুষ।


তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের আড়তদার মোঃ ইউনুস জানান, জৈষ্ঠ্য মাস শেষে আষাঢ় মাস চলে আসছে। এখনও নদীতে জেলেরা ইলিশ পাচ্ছেনা। যার কারণে অনেক জেলে নদীতে ঠিকমত যাচ্ছে না। জেলেরা নদীতে ভালো মাছ না পাওয়ায় আমরা আড়তদাররা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছিনা। সারাদিন ঘাটে বসে থাকি ২০/৩০ টি মাছ ক্রয় করতে পারি। ঠিকমত বরিশাল ও ঢাকার মোকামে মাছ পাঠাতে পারি না।
ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসাইন জানান, বর্তমানে জেলেদের জালে কাঙ্কিত ইলিশ মিলছে না। তবে বৃষ্টিপাত বাড়লে নদীতে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও এসময় টা নদীতে প্রতি বছরই ইলিশের পরিমাণ কম থাকে। তবে আগস্ট থেকে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে।